১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্ণিল আয়োজনে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’, হাজারো মানুষের ঢল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে বর্ণিল আয়োজনে শুরু হয়েছে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপন উপলক্ষ্যে আজ সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এতে অংশ নিয়েছেন নানা শ্রেনী পেশার হাজারো নারী পুরুষ।

আজকের সকাল ছিল একদম অন্যদিন থেকে আলাদা। চারিদিকে স্নিগ্ধ বাতাস বইছিল ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই। চারুকলা প্রাঙ্গণ ছিল উৎসবের রঙে রাঙানো। ভোরের আলো ফুটতেই জনস্রোত নামতে শুরু করে রমনা, টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায়।

এই বর্ণীল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী এবং নানা বয়সী বিভিন্ন পেশার নারী-পুরুষ। এছাড়া ঢাবি উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খানের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহন করেন।

শোভাযাত্রায় মুখোশ, পাপেট, বাঁশের তৈরি বাঘ, পাখি, মাছসহ নানা বিশালাকৃতির শিল্পকর্মের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতিনির্ভর মানুষের বিভিন্ন রূপ।

শুধু ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ এসেছেন এই বর্ণিল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে। নানা রঙের পোশাকে সেজেছে সবাই। নারীদের মাথায় ফুলের মালা, হাতে রঙিন চুড়ি এবং শিশুদের মুখে উচ্ছ্বাস-সব মিলিয়ে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ। ছোট ছোট বাচ্চা এবং নারীরা মুখে আলপনা করছে ১৪৩২ কে শুভেচ্ছা জানিয়ে। ছোট ছোট মুখোশ পরে এবং হাতে পতাকা নিয়ে আনন্দ মিছিলে অংশ নেয় তারা।

এক দর্শনার্থী বলেন, প্রতি বছর এই শোভাযাত্রার জন্য অপেক্ষা করি। এটি আমাদের সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা ও ঐক্যের প্রতীক।

নাদিয়া আশরাফ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, নতুন বিয়ে করেছি তাই স্বামীর সাথে প্রথম এই শোভাযাত্রায় এলাম এত আয়োজন অনেক ভালো লাগছে দেখে। মালাইকা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন এত মানুষ একসঙ্গে হওয়ার আনন্দই সবচেয়ে বড়। ঐতিহ্যকে এভাবে উদযাপন করার অনুভূতি একদম আলাদা।

অপরদিকে শোভাযাত্রা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে আছেন।

‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড়, টিএসসি, শহীদ মিনার, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তা পেরিয়ে পুনরায় চারুকলা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হবে।

উল্লেখ্য গত শনিবার ফেসিবাদের প্রতিকী হিসেবে হাসিনার মুখের অবয়ব তৈরী করা হয় তা এক মুখুশ পরা ছেলে পুড়িয়ে দেন। তাই আবার নতুন করে একটি অবয়ব তৈরি করার চেষ্টা করে।

Read Previous

নতুন আঙ্গিকে এবারের নববর্ষের আনন্দ শোভাযাত্রা

Read Next

পহেলা বৈশাখের যত আয়োজন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular