রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি,পর্যটন সংবাদ : পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ চাঁদা আদায় ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের অবসান ঘটাতে বড় পদক্ষেপ নিল বিচার ব্যবস্থা। চাঁদাবাজির মামলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) নেতা মাইকেল চাকমাকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহ:বার (৯ অক্টোবর) রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক তাজমুল হক এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন পাহাড়ের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী মহল।
১৮ বছর পর রায় – পাহাড়ে স্বস্তির বাতাস
২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর রাঙ্গামাটির লংগদু এলাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি এবং অর্থ আদায়ের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক হন ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমা ও তার সহযোগী সুমন চাকমা। পরদিন লংগদু থানায় মামলা হয় (মামলা নং–৫/২০০৭)।
দীর্ঘ ১৮ বছরের আইনি লড়াই, সাক্ষ্যগ্রহণ, পুনঃতদন্ত ও সময়ক্ষেপণের পর অবশেষে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত বলে ঘোষণা করে।
রায়ের বিস্তারিত
- দণ্ডিত ব্যক্তি: মাইকেল চাকমা ও সুমন চাকমা
- ধারা: ফৌজদারি দণ্ডবিধি ৩৮৫ ও ৩৮৬
- দণ্ড: ৮ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
- রায় ঘোষণার সময়: মাইকেল চাকমা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না
আদালতের বেঞ্চ ক্লার্ক আসাদুজ্জামান চাকমা জানান, রায়ের কপি থানায় পাঠানো হয়েছে, এবং দ্রুত দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
রাঙ্গামাটির ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন,
“প্রতিদিন অজানা ভয়ে ব্যবসা করতে হতো। এই রায় আমাদের সাহস দেবে। এবার হয়তো চাঁদাবাজদের দাপট কমবে।”
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তৌফিকুল ইসলাম বলেন,
“এই রায় পাহাড়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
অন্যদিকে আসামিপক্ষ জানিয়েছে, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
পাহাড়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন বার্তা
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই রায় শুধু একটি মামলার নিষ্পত্তি নয়, বরং পার্বত্য এলাকায় অপরাধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা। পর্যটন সম্ভাবনাময় রাঙ্গামাটি ও লংগদু এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হলে পর্যটকদের আস্থা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



