১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান-সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা জোট: ন্যাটোর মতো ‘যৌথ নিরাপত্তা ছাতা’

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান ও সৌদি আরব। পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান ও উপসাগরের আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের এই ঐতিহাসিক সমঝোতাকে সৌদি মিডিয়া আখ্যা দিয়েছে “ন্যাটোর মতো প্রতিরোধমূলক ছাতা”।

চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে যেকোনো একটির ওপর আগ্রাসন মানে সেটি উভয় দেশের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রিয়াদে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এ চুক্তিতে সই করেন।

যৌথ নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা

সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো নিরাপত্তা জোরদার করা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে যৌথ সামরিক মহড়া, নৌ ও বিমান সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন।

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “সৌদি আরব ও পাকিস্তান— একসঙ্গে, যেকোনো আগ্রাসীর বিরুদ্ধে সবসময়।”

ইসলামি ফ্রন্টের শক্তিবৃদ্ধি

সৌদি দৈনিক ওকাজ এ চুক্তিকে “ইসলামি ফ্রন্টের ঐতিহাসিক দুর্গ” বলে উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে পাকিস্তানের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা যুক্ত হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

একজন সৌদি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, “এটি বহু বছরের আলোচনার ফল। কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ।”

ন্যাটো-ধাঁচের প্রতিরক্ষা নীতি

অবসরপ্রাপ্ত সৌদি বিমানবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সাল আল-হামাদ বলেন, এই চুক্তি ন্যাটোর নীতি অনুসরণ করেছে। অর্থাৎ, এক দেশের ওপর আক্রমণ মানেই তা উভয়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।

গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বার্তা

এই চুক্তি এসেছে এমন সময়ে যখন ইসরায়েল-গাজা সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই দোহায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় কয়েকজন হামাস প্রতিনিধি ও এক কাতারি কর্মকর্তা নিহত হন। ফলে সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোটকে অনেকে দেখছেন একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে, যা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।

সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক শক্তি যুক্ত হয়ে যে যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরি হলো, তা নিঃসন্দেহে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা চিত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

Read Previous

শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে নতুন গ্রাম প্লাবিত, ধান-ঘের ডুবে কৃষকদের ক্ষতি

Read Next

দেশজুড়ে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির আভাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular