নেতানিয়াহুর ‘গাজা দখল’ পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ ৫৫০ সাবেক ইসরায়েলি কর্মকর্তা

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: গাজা পুরোপুরি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলের সাবেক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে চিঠি দিয়ে এই পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, পুলিশ, গোয়েন্দা ও পররাষ্ট্র দপ্তরের ৫৫০ জনেরও বেশি অবসরপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্মকর্তা।

চিঠিটি প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংস্থা Israel’s Security Movement (CIS)—যা মূলত দেশের সাবেক সামরিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিদের একটি প্ল্যাটফর্ম। সংস্থাটি এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ এই চিঠি প্রকাশ করে জানায়, গাজা দখলের পরিকল্পনা কেবল অযৌক্তিক নয়, বরং তা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

চিঠিতে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বর্তমান প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়ায়েল জামির গাজা পুরোপুরি দখলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। সাবেক কর্মকর্তারা তার এই সিদ্ধান্তকে বাস্তবভিত্তিক ও যৌক্তিক বলেই মনে করছেন।

তারা নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “গাজা দখলের চেয়ে বরং জিম্মিদের উদ্ধার, যুদ্ধবিরতি, হামাসকে শাসনক্ষমতা থেকে সরানো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোটে যুক্ত হওয়া— এই লক্ষ্যগুলোতে গুরুত্ব দিন।”

সেনাপ্রধানের স্পষ্ট মতভেদ

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার তেল আবিবে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সেনাপ্রধান জামির সরাসরি বলেন, “গাজা দখলের সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য এক ভয়াবহ ফাঁদ হয়ে দাঁড়াবে। এতে ইসরায়েলি সেনাদের দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করতে হবে, যা আমাদের বাহিনীর মনোবল ও সক্ষমতাকে আরও ক্ষয় করবে।”

তিনি আরও জানান, গাজার প্রায় ৭৫% এলাকা ইতোমধ্যে ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। তবে টানা দু’বছরের সামরিক অভিযানে সেনাবাহিনীর অনেক সদস্য ক্লান্ত, অবসাদগ্রস্ত এবং রিজার্ভ বাহিনীর উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি, সেনাপ্রধানের পাল্টা সতর্কবার্তা

বৈঠকে নেতানিয়াহু সেনাপ্রধানকে স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য পুরো গাজা দখলে আনা। যদি এতে আপনার দ্বিমত থাকে, তবে পদত্যাগ করুন।”

জবাবে জামির বলেন, “এটি একটি ভুল পদক্ষেপ। হামাস এখনও পুরোপুরি পরাজিত হয়নি এবং গাজা দখলের ফলে জিম্মিদের জীবন আরও বিপদের মুখে পড়বে।”

সাবেক কর্মকর্তাদের উদ্বেগ

সাবেক কর্মকর্তারা মনে করেন, নেতানিয়াহুর গাজা দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু সামরিকভাবে নয়, কূটনৈতিকভাবেও ইসরায়েলের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে। তারা বলছেন, “আমরা চাই ইসরায়েল নিরাপদ থাকুক— কিন্তু অপ্রয়োজনীয় দখল ও সংঘাত নয়, বরং কৌশলগত ও মানবিক পথেই সে নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক।

Read Previous

কক্সবাজার সফর নিয়ে আলোচনা, এনসিপি নেতা হাসনাতের ব্যাখ্যা: ‘এটি ছিল এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ’

Read Next

তাইওয়ান ভিসা এখন আরও সহজলভ্য: বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য জেনে নিন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় তথ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular