কক্সবাজার সফর নিয়ে আলোচনা, এনসিপি নেতা হাসনাতের ব্যাখ্যা: ‘এটি ছিল এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ’

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কক্সবাজার সফর নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের দিন (৫ আগস্ট) রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে তিনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজারে ভ্রমণ করেন। এ ভ্রমণের বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও হাসনাত বলছেন, এটি ছিল “অসম্পূর্ণ জুলাই ঘোষণাপত্রের প্রতি একটি নীরব প্রতিবাদ” এবং “চিন্তার সুযোগ তৈরি করা”।

নিজের ভ্রমণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, “৪ আগস্ট সন্ধ্যায় জানতে পারি যে, আমাদের আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের অনেকেই অনুষ্ঠান থেকে বাদ পড়েছেন। বিভাজনের এই চিত্র আমার কাছে রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। তাই ঐক্যহীন সেই আয়োজনে না গিয়ে ঢাকার বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।”

হাসনাতের সঙ্গে এই সফরে যুক্ত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা এবং আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মী। তিনি জানান, “এটি নিছকই একটি ব্যক্তিগত ভ্রমণ ছিল, যেখানে পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে কিছু সময় কাটানো এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ মিলেছে।”

তবে এই সফরের পর থেকেই তাদের গতিবিধি নিয়ে একটি নির্দিষ্ট মহল অপপ্রচারে লিপ্ত বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, “বিমানবন্দর থেকে শুরু করে কক্সবাজার পর্যন্ত আমাদের চলাফেরার প্রতিটি মুহূর্ত রেকর্ড করে তা নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে। এমনকি, গুজব ছড়ানো হয়েছে যে, আমরা পিটার হাসের সঙ্গে গোপন বৈঠকে যাচ্ছি—যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি তখন দেশেই ছিলেন না।”

সফরসঙ্গী তাসনিম জারাকে ঘিরে অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে চালানো ‘স্লাট শেমিং’-এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে হাসনাত বলেন, “এটি শুধু দুঃখজনক নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে নারীদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।”

তিনি আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, পর্যটন একটি স্বাধীন নাগরিক অধিকার, এবং যেকোনো ভ্রমণ বা অবস্থান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিকৃত করা অনুচিত। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি এমন ভ্রমণের মাধ্যমে নতুন চিন্তার খোরাক পাই, এবং এই সফরও তার ব্যতিক্রম নয়।”

অবশেষে হাসনাত আবদুল্লাহ এও বলেন, “আমার এই কক্সবাজার সফর ছিল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ এবং আত্ম-সমালোচনার সুযোগ। আমি এনসিপির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আশা করি দল ভবিষ্যতে আরও সহনশীল ও পরিণত আচরণ করবে।”

Read Previous

ঢাকার আকাশসীমায় ২৬৩টি উঁচু ভবন, উদ্বেগ বেবিচকের: তৃতীয় টার্মিনাল চালু নিয়ে জোর প্রস্তুতি

Read Next

নেতানিয়াহুর ‘গাজা দখল’ পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ ৫৫০ সাবেক ইসরায়েলি কর্মকর্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular