
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অধীনে এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সদস্যদের জন্য নতুনভাবে প্রণীত আধুনিক ইউনিফর্মের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া এই ইউনিফর্মের উদ্বোধন করেন। নতুন এই পোশাককে আধুনিক নিরাপত্তা চাহিদা ও পেশাদারিত্বের ছাপ বজায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে, যা এভসেক সদস্যদের উপস্থিতিকে আরও আত্মবিশ্বাসী, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দৃশ্যমান করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা এভসেক সদস্যদের পোশাকেও সেই গুরুত্বের প্রতিফলন থাকা জরুরি। নতুন ইউনিফর্মের মাধ্যমে তাদের মধ্যে পেশাদারিত্ব, ঐক্যবদ্ধতা ও আত্মমর্যাদা জাগানো সম্ভব হবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একটি ডেমোনস্ট্রেশন ইউনিট নতুন ইউনিফর্মে সজ্জিত হয়ে প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, এভসেক সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ঘটে। সেন্ট্রাল এয়ারলাইন্সের নতুন কার্গো ফ্লাইট রুটেরও উদ্বোধন করেন বেবিচক চেয়ারম্যান। উক্ত রুটের আওতায় এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে পাঁচটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনের উহু হুয়ানঝু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালিত হবে।
নতুন এই কার্গো রুটে তৈরি পোশাক, এক্সেসরিজ, মেশিনারিজ, ফেব্রিক্স, টেক্সটাইল খাতের কাঁচামালসহ রপ্তানিযোগ্য কাঁকড়া, ইল মাছ ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা হবে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন ইউনিফর্মের মাধ্যমে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন আরও পেশাদার হবে, তেমনি নতুন কার্গো রুটের ফলে রপ্তানি বান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে। পর্যটন ও বাণিজ্য খাতে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি।
পর্যটন, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার এমন যুগপৎ উন্নয়ন আমাদের দেশের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিলো—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্ট মহল।



