
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে নতুন করে জেগে উঠেছে পর্যটনের প্রাণ। মেঘ, পাহাড়, নদী আর ঝর্ণার অপরূপ মেলবন্ধনের জেলা বান্দরবানে দীর্ঘদিন পর পর্যটক আসতে শুরু করেছেন। কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে নানা সময় পর্যটন নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সম্প্রতি কয়েকটি জনপ্রিয় গন্তব্যে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে পর্যটন ব্যবসায়।
ধীরে ধীরে খুলছে পর্যটনের দুয়ার
নিরাপত্তাজনিত কারণে গত কয়েক বছর রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান পর্যটকদের জন্য বন্ধ ছিল। তবে ২০২৪ সালের জুন মাসে রুমার বগালেক এবং থানচির তুমাতুঙ্গি ও তিন্দু পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তার আগে ফেব্রুয়ারি মাসে রোয়াংছড়ির জনপ্রিয় স্থান দেবতাখুমে অনুমতি দেওয়া হয়। তবে নির্দেশিত স্থানের বাইরে যাওয়ার ওপর এখনও রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা।
জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানিয়েছেন, “যেসব এলাকা পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত, সেসব স্থানে কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি নেই। সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে, যার ফলে স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছে।”

পর্যটন শিল্পে ফিরে আসছে আশার আলো
বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির তথ্যমতে, জেলার বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় প্রায় দেড় শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই কেএনএফ-সংক্রান্ত সহিংসতার কারণে আবারও ক্ষতির মুখে পড়ে পর্যটনখাত। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর এবারের কোরবানির ছুটিতে পর্যটকের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে।
বান্দরবান হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিনের ক্ষতির পর এবার আমরা একটু আশার আলো দেখছি। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশংসনীয়। আশা করছি, আগের অবস্থানে আমরা দ্রুত ফিরতে পারব।”

সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও কেএনএফ প্রসঙ্গ
কেএনএফ গোষ্ঠীর উত্থান ২০১৮ সালে হলেও তাদের সহিংস তৎপরতা বড় পরিসরে সামনে আসে ২০২২ সালে। পাহাড়ি এলাকায় একাধিক ব্যাংক ডাকাতি, অপহরণ, খুন এবং জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির স্থাপনসহ নানা অভিযোগে কেএনএফের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সর্বশেষ তথ্যমতে, এ পর্যন্ত কেএনএফের ১৪ হাজারের বেশি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৪৭ হাজারের বেশি ইউনিফর্ম জব্দ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ২ জুন চট্টগ্রামে একটি ফেব্রিক্স কারখানায় অভিযান চালিয়ে কেএনএফের জন্য পোশাক সরবরাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় চারজনকে। এসব অভিযানের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেকটাই উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

পর্যটকদের জন্য বার্তা
নতুন করে পর্যটকদের জন্য বান্দরবানের দরজা খুলে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকেরা বলছেন, এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে পুরনো অবস্থায় ফিরে যেতে, তবে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
বান্দরবানে ভ্রমণ করতে আগ্রহীদের জন্য পরামর্শ—ভ্রমণের আগে প্রশাসনের নির্দেশনা ও স্থানীয় তথ্য যাচাই করে যাত্রা পরিকল্পনা করা বাঞ্ছনীয়।
তথ্যসূত্র: জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, হোটেল মালিক সমিতি, পুলিশ সুপার অফিস



