পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: নারী ফুটবলে বড় মঞ্চে পা রাখার স্বপ্নে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় ১২ দলের নারী এশিয়া কাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় দল। এই টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেই মিলবে ২০২৭ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের টিকিট। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
গতকাল (বুধবার) বিকেলে বাফুফের সহ-সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর অফিসে আয়োজিত এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেন ফেডারেশন সভাপতি তাবিথ আউয়ালসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। বৈঠকে মূলত এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। মাঠের অনুশীলন ছাড়াও ফুটবলারদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় নারী দলের চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন, যিনি জানান—অনেক নারী ফুটবলারের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় কম। তাই বিশ্বকাপের মতো শারীরিকভাবে demanding টুর্নামেন্টে পারফর্ম করতে হলে স্বাস্থ্য ও পুষ্টির দিকটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। তাই জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর আগে ফুটবলারদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব এসেছে।
শক্তিশালী প্রতিপক্ষ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াই করতে হলে শুধু টেকনিক বা ট্যাকটিকস নয়, শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকাটাও জরুরি। অথচ বাংলাদেশের নারী দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের ওজন কাঙ্ক্ষিত মাত্রার নিচে। এ কারণে পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ এবং শারীরিক ফিটনেস বৃদ্ধিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ এসেছে।
বাফুফে চায় প্রস্তুতির জন্য নির্দিষ্ট একটি মাঠ ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে। ঢাকায় বা আশপাশে উপযুক্ত বিকল্প খুঁজছে ফেডারেশন, যাতে ফুটবলাররা দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নিতে পারেন। বর্তমানে তারা বিভিন্ন ভেন্যুতে ঘুরে ঘুরে অনুশীলন করছেন, যা প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
আর্থিক দিক থেকেও নারী ফুটবলারদের উন্নয়নে পদক্ষেপ নিচ্ছে বাফুফে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এশিয়া কাপে কোয়ালিফাই করা দলের খেলোয়াড়দের মাসিক বেতন মাত্র ৫৫ হাজার টাকা—এটা পর্যাপ্ত নয়। বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধির ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে ফেডারেশন।
আগামী কয়েক মাস বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক জাতীয় দলভুক্ত খেলোয়াড় বয়সভিত্তিক দলেও খেলছেন। কোচ টম সেন্টফিট বাটলারও এসব দল সামলাচ্ছেন। ফলে সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কে প্রধান প্রস্তুতি পর্যায় হিসেবে দেখছে বাফুফে। নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাফ ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপেও জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় অংশ নেবেন।
সব মিলিয়ে ক্লাব ও জাতীয় দলের দায়িত্ব, প্রস্তুতি ক্যাম্প ও প্রীতি ম্যাচ—সবকিছুর সমন্বয়ে একটি সুপরিকল্পিত রোডম্যাপ তৈরি করছেন কোচ বাটলার। শিগগিরই তিনি বাফুফেকে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলের স্বপ্ন এখন শুধু এশিয়া কাপে অংশ নেওয়ায় সীমাবদ্ধ নয়, এবার লক্ষ্য ব্রাজিল বিশ্বকাপ। সেই লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে পুরো টিম।



