
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ঢাকার পাশেই এমন এক গ্রাম আছে, যেখানে গেলে মনে হবে প্রকৃতি যেন রঙের পসরা সাজিয়ে বসেছে। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সাবদি গ্রামকে সবাই এখন চেনে “ফুলের গ্রাম” নামে। শীতের মৌসুমে এই গ্রাম হয়ে ওঠে পর্যটকদের স্বপ্নভ্রমণ, আর স্থানীয়দের জন্য জীবিকার ভরসা।
ইতিহাস ও বিকাশ
সাবদি একসময় ছিল ধান, গম আর আখ চাষের গ্রাম। গত কয়েক দশকে কৃষকরা ধীরে ধীরে ঝুঁকেছেন ফুল চাষে। এখন পুরো গ্রামজুড়ে গাঁদা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, কসমস, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকাসহ নানা ফুল চাষ হচ্ছে। সরিষার হলুদ আর ফুলের বর্ণিল মাঠ একসঙ্গে মিলে তৈরি করে অনন্য দৃশ্যপট। এই পরিবর্তন শুধু সৌন্দর্য বাড়ায়নি, বদলে দিয়েছে গ্রামের অর্থনীতিও।
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
ফুল এখানে শুধু ব্যবসা নয়, সংস্কৃতিরও অংশ। শীতকালীন সকাল মানেই মাঠ থেকে ফুল তোলা আর বাজারে নিয়ে যাওয়া। শিশুরা পর্যটকদের হাতে গেঁথে দেয় মালা, স্থানীয় দোকানগুলোতে সাজানো থাকে সদ্যতোলা ফুল। শুক্রবারে “বৌয়া” নামের ভাত আর স্থানীয় ভর্তা খাওয়ার আলাদা আনন্দ আছে। কাছেই আছে কদম রসুল দরগা, সিরাজ শাহর মাজার ও সোনাকান্দা দুর্গ—যা ভ্রমণকে করে তোলে আরও বৈচিত্র্যময়।
কী দেখবেন
- রঙিন ফুলের মাঠে হাঁটার অভিজ্ঞতা
- নৌকা ভ্রমণ ও নদীর পাড়ের দৃশ্য
- সূর্যাস্তের সময় ফুলের রাজ্যে রঙের খেলা
- স্থানীয় খাবার আর মানুষের আতিথেয়তা
যাতায়াত ব্যবস্থা
ঢাকা থেকে গুলিস্তান বা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জগামী বাসে উঠতে হবে। নারায়ণগঞ্জ পৌঁছে রিকশা বা অটোরিকশায় লঞ্চঘাটে গিয়ে নৌকা পার হয়ে সাবদি যাওয়া যায়। চাইলে প্রাইভেট কারে কাঁচপুর সেতু হয়ে মদনপুর-বন্দর সড়ক দিয়ে সরাসরি যাওয়া সম্ভব।
খরচের হিসাব
- বাস ভাড়া: ৫০–১৫০ টাকা
- নৌকা ভাড়া: ১০–৫০ টাকা
- স্থানীয় যাতায়াত: ৫০–১০০ টাকা
- খাবার: ১৫০–৩০০ টাকা
- অতিরিক্ত (ফুল কেনা, গাইড ইত্যাদি): ৫০–২০০ টাকা
মোটামুটি একজন পর্যটকের একদিনের ভ্রমণে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যেই সুন্দরভাবে ঘুরে আসা যায়।
পরামর্শ
- ফুলের ক্ষেত নষ্ট করবেন না, ছবি তুলতে হলে সাবধানে যান।
- গ্রামের মানুষজনের সঙ্গে সৌজন্য বজায় রাখুন।
- আবহাওয়া খেয়াল করুন—বর্ষাকালে রাস্তা কাদা হতে পারে।
শহরের ব্যস্ততা থেকে কয়েক কদম দূরে গিয়ে যদি একটু প্রকৃতির রঙে ভিজতে চান, তবে সাবদি আপনার জন্য আদর্শ জায়গা। ফুলের গ্রাম আপনাকে দেবে শান্তি, রঙ আর ভ্রমণের এক ভিন্ন স্বাদ।



