
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারবে না।
এশিয়া সোসাইটি ও এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট কিউং–ওহা ক্যাং। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারাকে পরিচয় করিয়ে দেন।
বক্তব্যে ইউনূস বলেন, আঞ্চলিক অর্থনীতির উন্নয়নে সবাই উপকৃত হয়। তাই বাংলাদেশকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত হয়ে কাজ করতে হবে। তবে ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় এবং ভুয়া তথ্য প্রচারের কারণে দুই দেশের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের আন্দোলন হয়েছে বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। রসিক ভঙ্গিতে বলেন, ‘আমাকেও তালেবান বলা হয়েছে, শুধু দাড়িটা নাকি বাড়িতে রেখে এসেছি।’
ইউনূস সার্কের ধারণা ও ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, সার্কের ভাবনা প্রথম বাংলাদেশ থেকেই এসেছে। তরুণদের জন্য পারস্পরিক শিক্ষা, ব্যবসা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মিয়ানমার প্রসঙ্গে ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধান না হলেও তা স্থায়ী দ্বন্দ্বে পরিণত হওয়া উচিত নয়। রোহিঙ্গারা যেন নিজ দেশে ফিরে ঘরবাড়ি ও জীবিকা পুনরুদ্ধার করতে পারে, সেজন্য শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর তিনি জোর দেন।
এশিয়ান প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সুযোগ নিয়েও তিনি আশাবাদী। তাঁর মতে, আসিয়ান দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার একটি কার্যকর ক্ষেত্র হতে পারে, যেখানে বাংলাদেশ অনানুষ্ঠানিক সদস্য হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
অধ্যাপক ইউনূসের ভাষায়, “একত্রিত হওয়া ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোনো পথ নেই। আঞ্চলিক সহযোগিতাই সমস্যার সমাধানের একমাত্র উপায়।”



