
কাঞ্চনজঙ্ঘা, ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক। পর্যটন সংবাদ : পঞ্চগড়ে আবারও ধরা দিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ। কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর উত্তর সীমান্তের আকাশ হঠাৎই পরিষ্কার হয়ে ওঠে, আর সেই সঙ্গে দেখা মিলেছে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গের সোনালি–রূপালি আভা। আকাশ যখন স্বচ্ছ আর মেঘহীন থাকে, পঞ্চগড় তখন তার চেনা সৌন্দর্যে ফিরে যায়। সোমবার ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত আলোর সঙ্গে রঙ বদলে যাওয়া সেই দৃশ্য উপভোগ করেছে স্থানীয় মানুষ আর দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপ্রেমীরা।
গত দুই সপ্তাহ আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না। একাধিকবার চেষ্টা করেও খালি হাতে ফিরেছেন অনেকেই। অবশেষে সোমবার সেই অপেক্ষার শেষ হয়েছে। মঙ্গলবারও করতোয়া সেতু, তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলো এলাকা, বাংলাবান্ধা, শালবাহান, ভজনপুর—প্রায় সব স্পটেই ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ দাঁড়িয়ে দেখছেন খালি চোখে, কেউ আবার ফোনে বা ক্যামেরায় ধরে রাখছেন সেই মুহূর্ত।
ভোরের আলোয় কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য নাকি সবচেয়ে মোহনীয়। কখনো কালচে–বেগুনি, কখনো আবার দুধসাদা। দুপুরে সূর্যের আলো পড়লে পাহাড়চূড়া সোনালি হয়ে ওঠে। আর বিকেলে রঙ বদলের খেলা আরও নাটকীয়—কখনো লাল, কখনো বেগুনি আভায় বদলে যায় পুরো দিগন্ত। কেউ যদি একবার চোখে দেখে, বুঝতে দেরি হয় না কেন বছরের এই সময়টায় এখানে ভিড় বাড়ে।
রাজশাহী থেকে আসা নুসরাত জাহান জানালেন, স্বচ্ছ আকাশ আর নিরাপত্তা এবার তাঁকে আরও স্বস্তি দিয়েছে। ডাকবাংলো এলাকার দৃশ্যপট তাঁর কাছে ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। অন্যদিকে রায়হান হোসেন নামে এক দর্শনার্থীর অনুভূতি একটু আলাদা। বইতে ছবি দেখে বড় হওয়া, কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে দেখা—একে তিনি বললেন জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
এইভাবে যতো ভিড় বাড়ে, স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তার প্রভাব পড়ে সবচেয়ে বেশি। তেঁতুলিয়ার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা মিললেই পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যায়, আর সেই সঙ্গে জমে ওঠে ব্যবসা-বাণিজ্য। গেলো বছর অনেকেই আকাশ পরিষ্কার না থাকায় হতাশ হয়েছিলেন। এ বছরও প্রথম দিকে একই পরিস্থিতি থাকলেও নভেম্বরের মাঝামাঝি এসে আবহাওয়া বদলে গেছে।
পর্যটকদের সুবিধা বাড়াতে এবার প্রথমবারের মতো চালু করা হয়েছে hotels.gov.bd অনলাইন বুকিং অ্যাপ। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরুর মতে, এই অ্যাপের মাধ্যমে আগে থেকেই থাকা-খাওয়ার তথ্য ও বুকিং সুবিধা পাওয়া যাবে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকের চাপ বাড়ে—তাই নিরাপত্তা, আবাসন এবং পুরো পর্যটন এলাকায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন।
প্রতিবছর অক্টোবর থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। কিন্তু এবারের মৌসুমটা ছিল অন্যরকম—মেঘ, কুয়াশা আর আকাশ ঢেকে থাকার কারণে শুরুর দিকটা বেশ হতাশাজনক ছিল। কিন্তু সোমবার থেকে পাহাড়টি ফের নিজের রাজকীয় সৌন্দর্য মেলে ধরেছে। রূপালি আলোয় ঝলমলে শৃঙ্গের দিকে তাকিয়ে থাকা মানুষের চোখে ঝিলিক দিচ্ছে বিস্ময় আর তৃপ্তি।
শীতের আগমনী বার্তা পঞ্চগড়ে এবার যেন বাড়তি উপহার নিয়ে এসেছে। পর্যটকরা আশা করছেন, আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া এমনই পরিষ্কার থাকবে—আর কাঞ্চনজঙ্ঘার নরম সাদা আলোয় ভরে উঠবে পুরো উত্তরাঞ্চল।



