
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে পর্যটন শিল্প যখন কোভিড-পরবর্তী ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায়, ঠিক তখনই গ্রীসের জনপ্রিয় দ্বীপ কর্ফু এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চরম পর্যটনচাপে ভুগতে থাকা এই দ্বীপে এখন পর্যটক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
২০২৪ সালে কর্ফুতে পর্যটকের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বেড়েছে। বছরে প্রায় ২০ লক্ষ ভ্রমণপিপাসু এই দ্বীপে পা রেখেছেন। ২০১৯ সালের তুলনায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বেড়েছে ৩২ শতাংশ এবং ফেরিঘাটে যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে ৩১ শতাংশ। এই ব্যাপক বৃদ্ধি দ্বীপের রাস্তাঘাট, পরিবেশ এবং সামগ্রিক পরিকাঠামোর উপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে।
কর্ফু দীর্ঘদিন ধরেই ধনী ও রোমান্টিক ভ্রমণপিপাসুদের পছন্দের গন্তব্য। বিলাসবহুল পাঁচ তারা হোটেল ও রিসোর্টের আধিক্য, এবং ব্রিটেন, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড ও ফ্রান্স থেকে আগত উচ্চ আয়ের পর্যটকদের কারণে এই দ্বীপটি একটি প্রিমিয়াম পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
এবার প্রশাসনের লক্ষ্য—সংখ্যায় কম কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে বেশি অবদান রাখা পর্যটক। অর্থাৎ, সাধারণ ভ্রমণকারীর চেয়ে বেশি সময় ও টাকা ব্যয় করতে ইচ্ছুক ধনী পর্যটকদের জন্য দ্বার খুলে রাখছে কর্ফু। প্রশাসন চায়, ভিড় নয়, বরং মানসম্পন্ন পর্যটন হোক দ্বীপের অর্থনীতির চালিকা শক্তি।
এ লক্ষ্যে পর্যটকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও হোটেল ব্যবসার কাঠামোয় রদবদলের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ছোট কিন্তু বিলাসবহুল হোটেল নির্মাণে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, যাতে পরিবেশের উপর প্রভাব কমে কিন্তু রাজস্ব আয় বাড়ে।
এই কৌশল ভবিষ্যতের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে—যেখানে পর্যটনের গুণগত মানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সংখ্যার চেয়ে।



