ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক: গাজায় যুদ্ধবিরতি ও ২০ দফা পরিকল্পনা — “খুব, খুবই কাছাকাছি” বললেন ট্রাম্প

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর ট্রাম্প বললেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের বিষয়ে “খুব, খুবই কাছাকাছি” পৌঁছানো গেছে। একই সময়ে ট্রাম্প গাজার যুদ্ধ বন্ধ এবং বন্দি ইসরায়েলিদের মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বিস্তারিত ২০ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন — যা ইতোমধ্যে কূটনৈতিক মহলে ও হামাসের পক্ষেও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই নতুন পরিকল্পনার মূল দিকগুলো সংক্ষেপে বললে —

কী বললেন ট্রাম্প ও পরিকল্পনার মূল সারমর্ম

  • ট্রাম্প বলেন, বৈঠকটি “বড় দিন” এবং এটি এক ধরণের সমাধানের পথে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি জোর দিয়ে বললেন, গাজা নিয়ে নয়, পুরো অঞ্চলের স্থায়ী শান্তির কথা ভাবা হচ্ছে।
  • ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা গাজা থেকে ইসরায়েলি যুদ্ধ বন্ধ এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের দ্রুত মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেয়। একই সঙ্গে গাজাকে সামরিকীকরণমুক্ত করা ও হামাসসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীদের কার্যকরভাবে নিরস্ত্রীকরণের দাবি রাখে পরিকল্পনাটি।
  • পরিকল্পনায় গাজার স্বশাসন চালুর ব্যবস্থা স্বতন্ত্রভাবে করা হয়েছে: যুদ্ধশেষে গাজা পরিচালনায় ‘অরাজনৈতিক টেকনোক্র্যাটিক’ নেতৃত্ব নিয়োগ করা হবে — যা নির্বাচনভিত্তিক হবে না; বরং একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা সেটি নির্ধারণ করবে।

গাজার প্রশাসন ও নতুন তদারকি বোর্ড

  • পরিকল্পনায় একটি ‘বোর্ড অব পিস’ নামে আন্তর্জাতিক তদারকি সংস্থার ধারণা আনা হয়েছে। এই সংস্থা শান্তি বাস্তবায়ন ও তহবিল-প্রশাসন তদারকিতে দায়িত্বে থাকবে। ট্রাম্প নিজেই এই তদারকির ভূমিকায় অংশ নিতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছেন। টনি ব্লেয়ারকে ওই বোর্ডে সমন্বয়ক হিসেবে উল্লেখ করার কথা বলেছেন তিনি।
  • বোর্ডে হামাস বা অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর কোনো ভূমিকা থাকবে না — এমনটাই পরিকল্পনায় বলা হয়েছে।

নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক বাহিনী বনাম ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ

  • ট্রাম্পের পরিকল্পনায় গাজার নিরাপত্তার জন্য একটি ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)’ গঠনের প্রস্তাব আছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, আরব মহাদেশের কয়েকটি দেশ ও অন্যান্য সহযোগী অংশগ্রহণ করবে; সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থানীয় পুলিশের প্রশিক্ষণ এতে অন্তর্ভুক্ত।
  • কিন্তু বৈঠকে নেতানিয়াহু স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, গাজার নিরাপত্তা-রেখা ও কার্যত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে শেষ সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে চান তিনি। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে গাজার নিরাপত্তা সীমারেখা গড়ে তোলা এবং কিছু পর্যায়ে ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে থাকবে। এই দিকটি ট্রাম্পের পরিকল্পনার সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ।

বন্দি মুক্তি, প্রত্যাহার এবং সময়রেখা

  • নেতানিয়াহু বলেছিলেন, পরিকল্পনায় যদি সম্মতি আসে তবে প্রথম ধাপে সীমিত পরিসরে সেনা প্রত্যাহার হবে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে — এটিই আনুমানিক প্রস্তাবিত ধারা। পরবর্তী ধাপে আন্তর্জাতিক তদারকির মাপকাঠি অনুযায়ী আরও সেনা প্রত্যাহার বিবেচিত হবে।

হামাসের প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক পরিবেশ

  • কূটনীতি পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরিকল্পনাটি মূলত হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি আলটিমেটাম হিসেবে দেখা যেতে পারে: স্বীকার করো নাকি এর বিপরীতে ‘ইসরায়েল নিজেই কাজটি শেষ করে দেবে’ — নেতানিয়াহুর কণ্ঠে এমনই সতর্কবার্তা ছিল।
  • আল-জাজিরা ও অন্যান্য কূটনৈতিক সূত্র জানাচ্ছেন, হামাসের আলোচক দল পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা করছে; তবে সাধারণ ফিলিস্তিনি জনমত এখনও সন্দেহবর্জক। অনেকেই ভাবছেন, কিভাবে হামাসকে নির্বस्त্রীকরণ ও ক্ষমতাচ্যুত করা হবে এবং ইসরায়েলি সেনারা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করবে — এই নিশ্চয়তা কীভাবে দেওয়া হবে তা অনিশ্চিত।

এখানে যেটা সমস্যার মূল

ট্রাম্পের পরিকল্পনা এবং নেতানিয়াহুর বক্তব্যের মধ্যে যে স্পষ্ট তফাৎ — সেটাই এই প্রস্তাবের সবচেয়ে বড় অংশে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। ট্রাম্প আন্তর্জাতিক পরিষদের নেতৃত্বে একটি অরাজনৈতিক শাসন চান; নেতানিয়াহু চান নিরাপত্তার বিকল্প ব্যবস্থা ও ইন্তজামে ইসরায়েলের সক্রিয় ভূমিকা বজায় থাকুক। আর এই দ্বৈরথেই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নির্ভর করবে — বিশেষত হামাস ও প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওপর।

ট্রাম্প বলছেন, তিনি ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি “উজ্জ্বল ভবিষ্যত” চাচ্ছেন এবং অনেকে শান্তি চান — কিন্তু বাস্তবে যে শর্তগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো মেনেই চলা কি বাস্তবসম্মতভাবে সম্ভব হবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। হামাস কীভাবে সাড়া দেবে — সেটাই পরবর্তী সপ্তাহগুলোর বড় ঘটনা নির্ধারণ করবে।

Read Previous

প্রকৃতি, ইতিহাস আর রোমাঞ্চে ভরা সিপাডান আইল্যান্ড

Read Next

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সারা দেশে ভারী বৃষ্টির আভাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular