টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজার পর্যটনে ভাটা, ফিরতি পথে হাজারো পর্যটক

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা চার দিন ধরে বৃষ্টিতে ভিজছে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার। উত্তাল সাগর ও লাগাতার ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা লাখো পর্যটক চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন। দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি থাকায় পর্যটকেরা সৈকত অভিমুখে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছেন, অনেকেই ইতিমধ্যে ফিরে গেছেন।

সোমবার (৭ জুলাই) সরেজমিনে পর্যটক ও হোটেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের পরবর্তী তিন দিনের ছুটি উপলক্ষে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নামে। শহরের হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউসের প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ ছিল আগাম বুকিংয়ে পরিপূর্ণ। তবে টানা বৃষ্টি ও সাগরের উত্তাল অবস্থায় পরিস্থিতি বদলে যায়। অনেকেই বুকিং বাতিল করে ফিরতি পথ ধরেছেন।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, “শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউসের অধিকাংশ কক্ষ এখন খালি। দুপুরের পর থেকে বড় সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজার ত্যাগ করেছেন।”

টানা বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। প্লাবিত হয়েছে জেলার ৯ উপজেলার নিম্নাঞ্চল। যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ইউএনও মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, “পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত অনেক শরণার্থী শেড তলিয়ে গেছে।”

রোহিঙ্গা শিবিরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের টিম। কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, “বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ক্যাম্প ইনচার্জদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং ৯ জুলাই পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কাও রয়েছে।

সি-সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সাইফুল্লাহ সিফাত জানান, সাগরের কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লাল নিশানা টানিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে অনেক পর্যটক নির্দেশনা অমান্য করে সাগরে নামছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।”

প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই সময়টিতে কক্সবাজার ভ্রমণ আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যটকদের আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

– পর্যটন সংবাদ প্রতিবেদক

Read Previous

হাইকোর্ট নিয়ে মন্তব্য: সারজিস আলমের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আদেশের জন্য ২০ জুলাই দিন নির্ধারণ

Read Next

আলুটিলা: খাগড়াছড়ির পাহাড়ে গুহা, সেতু ও সৌন্দর্যের অপার রহস্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular