
বাংলাদেশ বিমান
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে আর্থিক সাফল্যের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সংস্থাটি এ বছর ৭৮৫ কোটি ২১ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৭৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্য দিয়ে বিমান টানা পঞ্চম বছরের মতো লাভজনক অবস্থান ধরে রাখল।
বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মঙ্গলবার বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ বশির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় এই আর্থিক ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। সভায় অর্থ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পররাষ্ট্র, মন্ত্রিপরিষদ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থবছরজুড়ে বিমান মোট ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬০২ কোটি টাকায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ১০ অর্থবছরের মধ্যে ৯ বছরই বিমান নিট মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমানে ২১টি বিমানের বহর ব্যবহার করে বিমান ৩০টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এ বছর সংস্থাটি ৩৩ লাখ ৮৩ হাজার যাত্রী পরিবহন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কার্গো খাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। মোট ৪৩ হাজার ৯১৮ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে বিমান আয় করেছে ৯২৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশের বেশি।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায়ও বিমানের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অর্থবছরে বিদেশি এয়ারলাইনের পরিচালিত ৩১ হাজারের বেশি ফ্লাইটে ৬১ লাখের বেশি যাত্রীকে এই সেবা প্রদান করা হয়েছে।
৫৪ বছরের ইতিহাসে বিমান কোনো সরকারি ভর্তুকি ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সংস্থাটি সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রির রেকর্ড গড়ে, যা যাত্রীদের আস্থা ও বাজারে বিমানের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
দ্রুত লাগেজ ডেলিভারি, বিমানের ভেতরের সেবার মানোন্নয়ন এবং আধুনিক বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা যাত্রী সন্তুষ্টি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে অনুসরণ করায় বিমান তার নিরাপত্তা রেকর্ডও দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় গণমাধ্যমের মতে, সাম্প্রতিক বহর আধুনিকীকরণ, লাভজনক আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বাড়ানো এবং গ্রাহকসেবায় বাস্তব উন্নয়নই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে শক্তিশালী আর্থিক ব্যবস্থাপনা, কার্যকর সম্পদ ব্যবহার এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ জোরদার হওয়ায় এ বছরের রেকর্ড মুনাফা সম্ভব হয়েছে।
আগামী দিনে বিমান নতুন জনপ্রিয় গন্তব্যে রুট সম্প্রসারণ, যাত্রীসেবা ও অপারেশন ডিজিটাল রূপান্তর এবং কার্গো কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সংস্থাটির লক্ষ্য জাতীয় গর্বের প্রতীক হিসেবে অবস্থান সুদৃঢ় করা এবং দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থাগুলোর কাতারে পৌঁছানো।



