
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ওয়াশিংটন এখন যেন কূটনীতির পাশাপাশি মনস্তত্ত্বের পরীক্ষার মঞ্চ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার দৌড়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি থেকে শুরু করে ইউরোপের শীর্ষ নেতারা পর্যন্ত সবাই শিখে নিয়েছেন এক বিশেষ কলা—“ট্রাম্প বিদ্যা”।
গত সোমবার হোয়াইট হাউসে যখন যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ডসহ ইউরোপীয় নেতাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বসে, তখন সবার নজর ছিল জেলেনস্কির দিকে। আগেরবার স্যুট না পরায় সমালোচিত হওয়া এই ইউক্রেনীয় নেতা এবার হাজির হন আনুষ্ঠানিক পোশাকে, রসিক ভঙ্গিতে। এমনকি মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের জন্য স্ত্রীকে দিয়ে লেখা একটি চিঠিও হাতে তুলে দেন ট্রাম্পের কাছে। এই হালকা কূটনৈতিক নাটক ট্রাম্পকে হাসিখুশি করে তোলে।
বৈঠকের টেবিলে নেতারা একে একে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং আসল বিষয়টি সামনে তোলেন—ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও দ্রুত যুদ্ধবিরতির দাবি। যদিও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গ জোর দিয়ে তোলায় মুহূর্তের জন্য পরিবেশ থমকে যায়, পরে আবার আলোচনা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।
অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও আলোচনায় যেন পর্দার আড়ালের চরিত্র হয়ে হাজির ছিলেন। ট্রাম্প বারবার তার বক্তব্যে পুতিনের চাওয়া তুলে ধরছিলেন, এমনকি বৈঠকের ফাঁকেই বলছিলেন, “পুতিনকে ফোন করে জানাতে হবে।” এতে বোঝা যাচ্ছিল, আলাস্কায় সাম্প্রতিক বৈঠকের পর পুতিনও ট্রাম্পকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই।
দিন শেষে প্রশ্নটা দাঁড়াল—ট্রাম্পকে বোঝার খেলায় এগিয়ে কে? ইউরোপীয় নেতারা নাকি পুতিন? আপাতত বলা যায়, দু’পক্ষই নিজেদের মতো কৌশল রপ্ত করেছে। তবে বৈঠক শেষে ট্রাম্পের মন্তব্য স্পষ্ট করল একটাই বিষয়—তিনি সন্তুষ্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখলেন, “আমি সম্মানিত অতিথিদের সঙ্গে খুব ভালো বৈঠক করেছি।”
ট্রাম্পকে ঘিরে এই অদ্ভুত কূটনৈতিক প্রতিযোগিতা এখন ইউরোপ-আমেরিকার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।



