
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার পর আরেকটি যুগান্তকারী ঘোষণার সাক্ষী হলো রাজধানী ঢাকা। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ করলেন ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’। এতে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে, তা বাংলাদেশের জনগণের বিজয়ের প্রতীক। ২৮ দফার ঘোষণাপত্রের ২৪ নম্বর দফায় শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং তাদের পরিবার, আহত আন্দোলনকারীদের জন্য আইনি সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়।
ড. ইউনূস বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি ইতিহাসের বাঁকবদলের অধ্যায়। জনগণের চেতনাই আজ নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের ভিত্তি।”
ঘোষণাপত্রে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সামরিক শাসন, বাকশাল, ১/১১ পরবর্তী দুঃশাসন, শেখ হাসিনার একনায়কতান্ত্রিক শাসন ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—সমস্ত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ভবিষ্যতের জন্য নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়েছে।
ঘোষণায় আরও বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থান রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পাবে এবং পরবর্তী সরকার কর্তৃক গৃহীত নতুন সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণা সংযুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মুক্তি ও অংশগ্রহণমূলক ভবিষ্যতের প্রতিফলন ঘটবে।
এদিন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের অনুষ্ঠানস্থল এক বিশাল জনসমাবেশে পরিণত হয়। জাতীয় পতাকা হাতে, শহীদদের ছবি বুকে জড়িয়ে হাজারো মানুষ ‘জয় গণতন্ত্র’, ‘শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না’—এই স্লোগানে মুখর ছিল।
এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ নতুন সূর্যোদয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে শহীদদের আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানো হবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে নতুন রূপে।
সংক্ষিপ্ত দফা হাইলাইট (২৪ নম্বর দফা):
“বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে’।



