
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: পর্যটনের মানে শুধু প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য কিংবা ঐতিহাসিক স্থাপত্য নয়—এই প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরের এক বিস্ময়কর স্থান। নাম তার ‘গাম ওয়াল’। পরিচ্ছন্নতার ধারেকাছেও নয়, বরং হাজার হাজার ব্যবহৃত চুইংগামে ঢাকা এক জীবাণুযুক্ত দেয়ালই হয়ে উঠেছে সিয়াটলের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ।
সিয়াটলের জনপ্রিয় পাইক প্লেস মার্কেটের ঠিক পাশেই অবস্থিত প্রায় ৮ ফুট উঁচু এবং ৫৪ ফুট লম্বা এই দেয়াল। নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে যেখানে ছিল একটি ছোট বক্স অফিস, সেখান থেকেই ‘গাম ওয়াল’-এর অদ্ভুত যাত্রা শুরু। ১৯৯১ সালে একটি থিয়েটার প্রযোজনা সংস্থা বক্স অফিসটি কিনে নেওয়ার পর সেখানে অনুষ্ঠান দেখতে আসা দর্শনার্থীরা মজা করেই চুইংগাম লাগাতে শুরু করেন। কেউ কেউ চুইংগামের সঙ্গে কয়েনও লাগিয়ে দিতেন। সময়ের সঙ্গে এই মজাই পরিণত হয় এক ব্যতিক্রমী রীতিতে।
বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠে রঙিন চুইংগামের পুরু স্তর। এই দেয়ালকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে অদ্ভুত এক পর্যটন সংস্কৃতি। অনেকেই বিয়ের আগের ফটোশুট কিংবা ভালোবাসার মুহূর্ত ধরে রাখতে আসেন এই দেয়ালের সামনে। একজন শিল্পী আমেরিকার বিখ্যাত ফুটবল কোচ পিটার ক্লে ক্যারলের প্রতিকৃতিও তৈরি করেন ২০০টিরও বেশি চুইংগাম ব্যবহার করে—পিটারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে, যিনি দিনে গড়ে ১৩০টি চুইংগাম চিবোতেন বলে জানা যায়।
তবে এই ‘চুইংগাম সংস্কৃতি’ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগেরও শেষ নেই। চুইংগামের আঠালো গন্ধে ইঁদুরের উপদ্রব বেড়ে যায়, এমনকি বাজারের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে চুইংগাম লেগে থাকার কারণে দেয়ালের ইট নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়।
এ অবস্থায়, ২০১৫ সালে সিয়াটল কর্তৃপক্ষ দেয়াল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়। স্টিম মেশিন ব্যবহার করে ১৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১৩০ ঘণ্টার চেষ্টায় তোলা হয় প্রায় ১,০৭০ কেজি চুইংগাম। ২০১৮ ও ২০২৪ সালেও পুনরায় দেয়াল পরিষ্কার করা হয়, কিন্তু চুইংগাম লাগানোর প্রবণতা থামেনি।
জীবাণু, গন্ধ আর অস্বস্তি সত্ত্বেও ‘গাম ওয়াল’ এখন এক জীবন্ত ইতিহাস—যা বিশ্বজুড়ে ভিন্নধর্মী পর্যটন স্থানগুলোর মধ্যে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। পর্যটকদের কাছে এটি যেন সিয়াটলের এক রঙিন ও চিরবৈচিত্র্যপূর্ণ চিহ্ন।
– পর্যটন সংবাদ



