১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জার্মানি নাগরিকত্বের যে আইন বাতিল করতে যাচ্ছে

তিন বছরে জার্মানিতে নাগরিকত্ব পাওয়ার যে বিধান ছিল, তা বাতিল করতে যাচ্ছে দেশটির নতুন সরকার। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসতে যাওয়া নতুন জোটের চুক্তিপত্রে এমনটাই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে পাশাপাশি পাঁচ বছর পর নাগরিকত্ব পাওয়ার আইন ঠিকি বহাল থাকছে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জার্মানির মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর চলতি সপ্তাহে সরকার গঠনের লক্ষ্যে জোট গঠন করে রক্ষণশীল সিডিইউ/সিএসইউ এবং মধ্য বামপন্থি এসপিডি।

জোটের চুক্তি অনুযায়ী, নতুন সরকার জার্মানির নাগরিকত্ব আইনে কিছু পরিবর্তন আনছে।

এর আগে ওলাফ শলৎসের নেতৃত্বাধীন বিদায়ী সরকার নাগরিকত্ব আইন সহজ করার লক্ষ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছিল। এর মধ্যে রয়েছে জার্মান সমাজে একীভূত হওয়ার শর্তসাপেক্ষে তিন বছর জর্মানিতে অবস্থান করা বিদেশিদের নাগরিকত্ব প্রদানের সুযোগ।

সিডিইউ/সিএসইউর নেতৃত্বাধীন নতুন জোট সরকার এই আইনে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তিন বছরের ওই আইন বতিল করন। তবে নির্বাচনের আগে আলোচনায় আসা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত দ্বৈত নাগরিকদের জার্মান নাগরিকত্ব বাতিল করা বিষয়ক কোনো বিধান রাখছে না নতুন সরকার। পাশাপাশি পাঁচ বছর পর নাগরিকত্ব পাওয়ার আইন আগের মতোই বহাল থাকছে।

তিন বছরের এই নাগরিকত্ব পেতে বিদেশিদের সি১ লেভেলের জার্মান ভাষার দক্ষতা এবং জার্মান সমাজে একীভূত হওয়ার জোরালো প্রমাণ উপাস্থান করার বিধান ছিল। সেই সময় থেকেই রক্ষণশীল সিডিইউ/সিএসইউ এই আইনের বিরোধিতা করে আসছিল।

তাদের দাবি, তিন বছরে নাগরিকত্ব পাওয়ার মানে হলো খুব অল্প সময়ে জার্মানির নাগরিকত্ব পেয়ে যাওয়া। নির্বাচনে জিতে জার্মান নাগরিকত্বের বিষয়ে নিজেদের ভাবনার প্রতিফলন ঘটাতে যাচ্ছে সিডিইউ/সিএসইউ।

বহাল থাকছে দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ

নাগরিকত্ব আইন সহজ করার অংশ হিসেবে ওলাফ শলৎসের সরকার দ্বৈত নাগরিকত্বের বিধান যুক্ত করেছিল। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা চাইলে একই সঙ্গে নিজ দেশের ও জার্মানির পাসপোর্ট রাখার সুযোগ পাচ্ছিলেন।

রক্ষণশীল সিডিইউ/সিএসইউ এই বিষয়ে সমালোচনা করলেও ধারণা করা হচ্ছে, দ্বৈত নাগরিকত্বের আইন আগের মতোই রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে জোট।

নাগরিকত্ব বাতিল করে দেওয়া

নির্বাচনের আগে দ্বৈত নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিল করার বিষয়েও আলোচনা করছিল বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। বলা হয়েছে, দ্বৈত নাগরিকদের কেউ যদি সন্ত্রাসী সংগঠনের সমর্থক, ইহুদিবিদ্বেষী এবং কট্টরপন্থি মনোভাব পোষণ করে, তাহলে তাদের থেকে জার্মান নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে।

তখন সিডিইউ/সিএসইউর এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছিল নতুন জোটের আরেক সঙ্গী এসপিডি। এমনকি জার্মানির মাইগ্রেশন অ্যাসোসিশনের পক্ষ থেকেও এর তিব্র নিন্দা জানানো হয়েছিল।

নতুন সরকারের জোট গঠনের আলোচনায় এই বিষয় আর গুরুত্ব পায়নি বলে জানা গেছে।

Read Previous

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ২৮ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

Read Next

চারুকলায় আগুনে পুড়ে গেল ‘ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি’ ও ‘শান্তির পায়রা’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular