১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাদুকাটা নদীতে রাতের আঁধারে বালু লুট: পর্যটন ও পরিবেশ বিপন্ন

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া জাদুকাটা নদী বহুদিন ধরেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য এবং পর্যটনের এক অপার সম্ভাবনার নাম। দেশের বৃহত্তম শিমুল বাগানকে ঘিরে এই নদী রূপ নেয় এক মনোমুগ্ধকর ভ্রমণ অভিজ্ঞতার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে এখন সেই জাদুকাটা নদীই যেন পরিণত হয়েছে এক গোপন দুর্বিপাকের প্রতীকে।

দিনভর শান্ত ও কর্মহীন নদীর তীরজুড়ে বসে থাকেন হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ, যাদের জীবিকা নির্ভর করে এই নদীর ওপর। কারণ, হাইকোর্টের এক নির্দেশনায় জাদুকাটা নদীতে সব ধরনের বালু উত্তোলন ও ড্রেজিং কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে। উদ্দেশ্য—নদী ও আশপাশের পরিবেশ রক্ষা করা এবং অবৈধ খননের ক্ষতি ঠেকানো।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন। রাতের নিঃস্তব্ধতায় নদীজুড়ে গোপনে শুরু হয় অবৈধ খননের মহোৎসব। একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট নিয়মিতভাবে হাইকোর্টের আদেশকে উপেক্ষা করে ড্রেজার দিয়ে উত্তোলন করে চলেছে বালু। নদীর তলদেশ চিরে এই বালু উত্তোলনের ফলে একদিকে যেমন তীর ভাঙছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি, বসতভিটা ও প্রাকৃতিক বৃক্ষরাজি।

স্থানীয়রা জানান, দিনের বেলায় প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও রাতের অন্ধকারে ড্রেজার মেশিন চালিয়ে চলে ‘অঘোষিত লুটপাট’। ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি পর্যটকদের আকর্ষণ হারাচ্ছে এ অনন্য নদী ও শিমুল বাগানের অঞ্চলটি।

পরিবেশবিদরা বলছেন, এই অব্যাহত বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে জাদুকাটা নদী শুধু তার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যই হারাবে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শ্রমজীবী মানুষ এবং স্থানীয় পর্যটন খাতও ধ্বংস হয়ে পড়বে।

পর্যটন, পরিবেশ এবং স্থানীয় জীবনযাত্রা রক্ষায় অবিলম্বে কঠোর নজরদারি ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

Read Previous

শবনম ফারিয়ার রাজনৈতিক হতাশা: ‘‘এই সবুজ পাসপোর্টে কই যাব আমরা?’’

Read Next

ভিয়েতনাম ভ্রমণে আগ্রহীদের জন্য সুখবর: সহজ হলো ভিসা প্রসেসিং, বাড়ছে পর্যটকদের আগ্রহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular