
পর্যটন সংবাদ প্রতিবেদক: বর্ষাকালে শহরের কোলাহল থেকে একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিতে চাইলে চলে যেতে পারেন উত্তরা দিয়াবাড়িতে। রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত এই এলাকায় বর্তমানে বেশ কয়েকটি লেকে চলছে কায়াকিং—যা নগরবাসীর জন্য হয়ে উঠেছে নতুন রকমের এক বিনোদন।
মেট্রোরেলে খুব সহজেই পৌঁছানো যায় এখানে। আগারগাঁও, ফার্মগেট, মিরপুর বা মতিঝিল থেকে সরাসরি মেট্রোতে উঠে নামতে হবে উত্তরা সেন্ট্রাল স্টেশন-এ। এরপর ৭৫ নম্বর পিলারের পাশ থেকে রিকশায় কিংবা পায়ে হেঁটে পৌঁছে যাওয়া যায় কাছের কায়াকিং স্পটগুলোতে।

গতকাল ছুটির দিনে ঘুরে দেখা গেল—পানিতে দোল খাচ্ছে লাল, নীল, হলুদ রঙের কায়াক। ভেসে বেড়াচ্ছে কায়াক প্রেমীরা। রাজধানীর কলেজ শিক্ষার্থী রাশেদ, ফারিয়া ও তৌফিক জানালেন, এই জলভ্রমণ যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি মানসিক প্রশান্তির এক নতুন অভিজ্ঞতা।
বিদেশি পর্যটকরাও মুগ্ধ
ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো শহর থেকে আগত পর্যটক রেবেকা লুইজা বলেন, ‘ছুটিতে এসেছি নানাবাড়ি গাজীপুরে। ইনস্টাগ্রামে দিয়াবাড়ির কায়াকিং দেখে মুগ্ধ হয়ে চলে এসেছি এখানে। যদিও এখানকার কায়াকগুলো ছোট এবং হালকা, তবে অভিজ্ঞতাটা ছিল চমৎকার।’
খরচ কত?
দিয়াবাড়ি ওয়াটার অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব–এর ব্যবস্থাপক রাহিম উদ্দিন জানান, বর্তমানে সাতটি লেকে টু-সিটার ও থ্রি-সিটার কায়াক চালানো যাচ্ছে। তিনজন মিলে একটি থ্রি-সিটার কায়াক ৩০০ টাকায় ৩০ মিনিট চালানো যায়। ঘণ্টা ধরে চাইলে দরদাম করে কিছুটা ছাড়ও পাওয়া যায়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত
সব যাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে তবেই পানিতে নামানো হয় বলে জানান রাহিম। তিনি বলেন, ‘আমরা মাছ চাষের পাশাপাশি এলাকাবাসীর জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে সকলে মিলে পানির আনন্দ নিতে পারেন।’
শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা
ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিকা, রাইসা ও তামান্না জানালেন, ‘এই কায়াক চালানোর মধ্যে যেমন শরীরচর্চা হয়, তেমনি প্রকৃতির সঙ্গে একান্ত সময় কাটানোর এক অনন্য সুযোগ মেলে।’
তাঁরা আরও বলেন, ‘ডানে বৈঠা চালালে কায়াক বাঁ দিকে ঘোরে, আর বাঁ দিকে চালালে ডানে। সোজা চলার জন্য সমান ছন্দে চালাতে হয়।’
কেন যাবেন দিয়াবাড়ি?
নগরজীবনের চাপ, ক্লান্তি আর যান্ত্রিক পরিবেশ থেকে কিছুটা ছুটি নিয়ে প্রকৃতির কোলে সময় কাটাতে চাইলে দিয়াবাড়ির কায়াকিং হতে পারে চমৎকার এক বিকল্প। বর্ষার মৌসুমে যখন লেকগুলো পানিতে পূর্ণ, তখন এ অভিজ্ঞতা হয় আরও প্রাণবন্ত।
যাওয়ার উপায়
মেট্রোরেলে করে সরাসরি উত্তরা সেন্ট্রাল স্টেশনে নামুন। ৭৫ নম্বর পিলারের দিক থেকে কয়েক মিনিটের হাঁটা পথ অথবা রিকশায় চড়ে চলে যান কায়াকিং স্পটে।
সতর্কতা:
নিরাপত্তার জন্য সব সময় লাইফ জ্যাকেট পরে কায়াকে উঠুন এবং শিশুদের সঙ্গে একজন অভিভাবক রাখুন।



