
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: চট্টগ্রামের বান্দরবানের চিম্বুক রেঞ্জে অবস্থিত কির্সতং (Kirs Taung) পাহাড় অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য এক রোমাঞ্চকর গন্তব্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,৯৮৯ ফুট উচ্চতার এই পাহাড়টি ট্রেকিংপ্রেমীদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। স্থানীয় মারমা ভাষায় ‘কির্স’ মানে একটি বিশেষ প্রজাতির গাছ এবং ‘তং’ মানে পাহাড়—এই নাম থেকেই এসেছে কির্সতং।
কির্সতং থেকে আশপাশের তিন্দু ও পার্বত্য দৃশ্যপটের মনোরম ভিউ উপভোগ করা যায়, যদিও ঘন গাছপালার কারণে অনেক সময় ওয়াইড ভিউ সীমিত থাকে। চিম্বুক রেঞ্জের সর্বোচ্চ চূড়া হিসেবেও পরিচিত এই পাহাড়টি একসময় মাদারগাছের সংরক্ষিত বনভূমি ছিল, যেখানে ছিল নানা প্রজাতির পাখি ও প্রাণী। এখনো বিস্তৃত বন, উঁচু পাহাড়ের চূড়া ও প্রকৃতির নীরবতা এখানে ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে।

যাওয়া ও ট্রেকিং তথ্য
ঢাকা থেকে প্রথমে আলীকদম যেতে হবে। সরাসরি বাস ভাড়া প্রায় ৮৫০ টাকা। সরাসরি বাস না পেলে কক্সবাজার হয়ে চকরিয়া নেমে সেখান থেকে আলীকদম যাওয়া যায়। আলীকদম পৌঁছে স্থানীয় গাইড নিতে হবে, কারণ কির্সতং পর্যন্ত যাত্রা চ্যালেঞ্জিং এবং পথনির্দেশক ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ। আলীকদম থেকে বাইক বা চাঁদের গাড়িতে ১৩ কিলোমিটার যেতে হয়। বাইকের ভাড়া জনপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা এবং চাঁদের গাড়ির ভাড়া ২৫০০-৩০০০ টাকা।
ট্রেকিং সময়কাল প্রায় ৪ দিন, তবে ট্রেক শুরু ও শেষের দিনগুলো মিলিয়ে পরিকল্পনা করা ভালো। পথে খেমচং পাড়া বেসক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বছরের যেকোনো সময় ট্রেকিং করা গেলেও শুষ্ক মৌসুম তুলনামূলক আরামদায়ক।
সতর্কতা ও প্রস্তুতি
ট্রেক চলাকালে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়, তাই পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে রাখতে হবে। সাথে রাখতে হবে সালাইন, প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী ও খাবার। এলাকায় দোকান বা খাবারের ব্যবস্থা নেই, তাই আগেই প্রস্তুতি নিতে হবে। ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকা হওয়ায় প্রতিষেধক নেওয়া জরুরি। পাহাড়ি পথ অত্যন্ত দুর্গম, তাই অভিজ্ঞ স্থানীয় গাইড ছাড়া যাওয়া উচিত নয়। রাতের ট্রেকের জন্য হেডল্যাম্প বিশেষভাবে কার্যকর।

প্রকৃতির নিসর্গ, চ্যালেঞ্জিং ট্রেকিং রুট ও পাহাড়ের নীরবতা—সব মিলিয়ে কির্সতং ট্রেকিং হতে পারে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।



