
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা ঘিরে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গোপালগঞ্জ শহরে চলমান কারফিউর মধ্যে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন। গত বুধবারের ঘটনার পর শহরে টানা কারফিউ জারি থাকলেও আজ শুক্রবার সকাল থেকে শহর ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ও জনসমাগম বাড়তে দেখা গেছে।
গোপালগঞ্জ শহরের কাঁচাবাজার, লঞ্চঘাট, বিসিক শিল্প এলাকা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আজ সকাল থেকে জনসাধারণের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, রিকশা এবং বাস চলাচলও শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে আটটার দিকে চুয়াডাঙ্গা মোড় ও পুলিশ লাইনস এলাকায় গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট ও গোপালগঞ্জ-ব্যাসপুর রুটে বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়।
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সচল করার প্রয়াসে কারফিউর সময়সীমা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কারফিউর মেয়াদ বাড়িয়ে আজ শুক্রবার সকাল ১১টা পর্যন্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে দুপুর ২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিথিল ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিসিক এলাকায় বাজার করতে আসা গৃহবধূ সাবিনা বেগম বলেন, “গত দুই দিন বাসা থেকে বের হতে পারিনি। তাই আজ সকালে বাজার করতে বের হয়েছি।” রিকশাচালক উজ্জ্বল হাওলাদার বলেন, “পেটের দায়ে রিকশা চালাই। দুই দিন রিকশা চালাতে পারিনি, কোনো যাত্রী ছিল না। এখন কিছু যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম নিয়ে আসা ব্যবসায়ী মামুন ব্যাপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুই দিন আগে আম এনেছিলাম, কিন্তু কিছুই বিক্রি করতে পারিনি। আজ কিছু আম নিয়ে বসেছি বিক্রির জন্য।”
উল্লেখ্য, গত বুধবার এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। অন্তত ৯ জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। সহিংসতার পর পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে গোপালগঞ্জ ও আশপাশের সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।



