
নিজস্ব প্রতিবেদক।পর্যটন সংবাদ : রাজধানীর কাওরান বাজারে অবস্থিত দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রাত পৌনে ১২টার দিকে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় কার্যালয়ের একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শাহবাগ এলাকা থেকে একটি মিছিল কাওরান বাজারের দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলটি প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে সেখানে ঘেরাও ও বিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুতে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে চেষ্টা করেন। তবে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এবং উত্তেজনা তীব্র হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ লাঠিসোঁটা নিয়ে কার্যালয়ের জানালা ও প্রবেশপথে ভাঙচুর চালায়। এতে ভবনের বেশ কয়েকটি জানালার কাচ ভেঙে যায়। রাত ১২টার দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের একটি দল ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে টেবিল, চেয়ারসহ বিভিন্ন অফিস সরঞ্জাম এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাইরে বের করে রাস্তায় স্তূপ করে রাখে। পরে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনের শিখা ও ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথম আলোর একাধিক সাংবাদিক ও কর্মকর্তা ওই সময় কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের একজন জানান, হঠাৎ হামলার কারণে অনেকেই নিরাপদে বের হতে পারেননি এবং ভেতরে আটকে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে বাইরে বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলা ও অগ্নিসংযোগের সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করার কথা জানান। তিনি বলেন, কয়েকশ মানুষ একত্রিত হয়ে এই হামলায় অংশ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে হামলায় কারা সরাসরি জড়িত ছিল এবং কারা নেতৃত্ব দিয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য তখনও পাওয়া যায়নি।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাওরান বাজার ও আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালায়। একই সঙ্গে কার্যালয়ের ভেতরে আটকে পড়া সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের নিরাপদে বের করে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত তদন্ত করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
প্রতিবেদক : রেদোয়ান মুস্তফা



