
উসমান হাদী
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠক শরীফ ওসমান হাদীর মরদেহ আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা এই নেতার মরদেহ বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটে সিঙ্গাপুর ত্যাগ করবে এবং সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দলীয় নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টায় সিঙ্গাপুরের আঙ্গুলিয়া মসজিদে শরীফ ওসমান হাদীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশি মুসল্লি ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর শনিবার যোহরের নামাজের পর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গন, বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, তারা ওসমান হাদীকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন সংগ্রামী হিসেবে দেখেন এবং তাকে শহীদের মর্যাদায় স্মরণ করছেন।
এদিকে শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সরকার শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে জারি করা ঘোষণায় বলা হয়, এই দিনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হবে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১২ ডিসেম্বর। রাজধানীর পুরাতন পল্টন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদী। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাথায় মারাত্মক আঘাত পান। ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি নিবিড় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যু ঘিরে হামলার তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠন এই ঘটনাকে গুরুতর রাজনৈতিক সহিংসতা হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
একজন তরুণ রাজনৈতিক মুখপাত্র হিসেবে শরীফ ওসমান হাদী অল্প সময়েই পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। তার মৃত্যু শুধু একটি সংগঠনের নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্যও একটি বড় ক্ষতি বলে মনে করছেন অনেকে। জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



