কক্সবাজারের পরিবেশ-বান্ধব বিলাসবহুল রিসোর্ট মারমেইড বিচ রিসোর্ট ডিজিটাল যুগে পা রাখলো: গুস্তাভের সাথে এক বছরের চুক্তি স্বাক্ষর

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের শান্ত পরিবেশে অবস্থিত মারমেইড বিচ রিসোর্ট তার পরিবেশ-সচেতন বিলাসবহুল পর্যটন মডেলকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। কক্সবাজার-ভিত্তিক এই রিসোর্টটি হসপিটালিটি টেকনোলজি খাতের প্রখ্যাত প্রতিষ্ঠান গুস্তাভের সাথে এক বছর মেয়াদি পরিষেবা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে রিসোর্টের সম্পূর্ণ কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে, যা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং অপারেশনাল দক্ষতা বাড়াবে।

২০ মার্চ, ২০২৬ তারিখে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মারমেইড ইকো ট্যুরিজম লিমিটেডের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার গাজী ইমাদ উদ্দিন মাহমুদ এবং মারমেইড বিচ রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার রানা কর্মকার রিসোর্টের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে, গুস্তাভের অর্থ বিভাগের প্রধান স্তেফানো মুরদাকা এবং প্রতিষ্ঠানটির চিফ টেকনোলজি অফিসার মোহাম্মদ একরাম প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন।

এই অংশীদারিত্বের আওতায় গুস্তাভ তার অত্যাধুনিক ডিজিটাল হসপিটালিটি প্ল্যাটফর্মকে মারমেইড বিচ রিসোর্টের বিদ্যমান অবকাঠামোর সাথে সম্পূর্ণরূপে একীভূত করবে। প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে ফ্রন্ট ডেস্ক অপারেশন স্ট্রিমলাইন করার জন্য বিশেষ টুলস, অতিথিদের বিভিন্ন অনুরোধ দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা, রিয়েল-টাইম রাজস্ব নিরীক্ষণ এবং বিশ্লেষণের সুবিধা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সিস্টেমটি একক রিসোর্ট থেকে শুরু করে একাধিক প্রপার্টি পরিচালনার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজ করা যাবে। ফলে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে চেইন এক্সপ্যানশনের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তির সুবিধা নিতে পারবে।

মারমেইড বিচ রিসোর্ট দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে পরিবেশ-বান্ধব বিলাসবহুল আতিথেয়তার জন্য সুপরিচিত। পেচারদ্বীপ এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অবস্থিত এই রিসোর্টটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে আধুনিক সুবিধাদি মিলিয়ে অতিথিদের এক অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে। সবুজায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই পর্যটনের উপরবিশেষ গুরুত্ব দিয়ে রিসোর্টটি ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ট্রিপঅ্যাডভাইজারসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এর ইকো-ফ্রেন্ডলি অ্যাপ্রোচের জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছে।

উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এই সহযোগিতাকে কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের আতিথেয়তা খাতের আধুনিকীকরণের একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। মারমেইডের সিএফও গাজী ইমাদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, “পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি অতিথিদের সেবা আরও দ্রুত ও ব্যক্তিগতকৃত করতে ডিজিটাল রূপান্তর অপরিহার্য। গুস্তাভের প্রযুক্তি আমাদেরকে এই লক্ষ্যে সহায়তা করবে।” গুস্তাভের সিটিও মোহাম্মদ একরাম জানান, “মারমেইডের মতো ইকো-ফোকাসড রিসোর্টের সাথে কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমাদের প্ল্যাটফর্ম শুধু অপারেশন সহজ করে না, বরং টেকসই ব্যবসায়িক বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে।”

চুক্তিটি এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং এর আর্থিক মূল্য উভয় পক্ষই প্রকাশ করেনি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশন কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করেতুলবে। বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য রিসোর্ট ও হোটেলগুলোকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

মারমেইড বিচ রিসোর্টের এই পদক্ষেপ শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং পরিবেশ ও আধুনিকতার মেলবন্ধনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। কক্সবাজারের বিখ্যাত সমুদ্র সৈকতের কাছে অবস্থিত এই রিসোর্টটি এখন থেকে আরও স্মার্ট ও অতিথি-কেন্দ্রিক সেবা প্রদান করতে সক্ষম হবে।পর্যটকরা এখন অ্যাপের মাধ্যমে রুম সার্ভিস, স্পা বুকিং, ট্যুর অ্যারেঞ্জমেন্টসহ বিভিন্ন সুবিধা সহজেই উপভোগ করতে পারবেন।

এই চুক্তির ফলে রিসোর্টের কর্মীদের দৈনন্দিন কাজও অনেকাংশে সহজ হয়ে উঠবে। ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া কমে আসায় তারা অতিথিদের সাথে আরও বেশি সময় ব্যয় করতে পারবেন, যা সামগ্রিক সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। উভয় প্রতিষ্ঠান আশা করছে, এই সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে আরও বিস্তৃত হবে এবং বাংলাদেশের হসপিটালিটি সেক্টরে ডিজিটাল উদ্ভাবনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প বর্তমানে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। এর মধ্যে মারমেইড বিচ রিসোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যদি পরিবেশ-বান্ধবতা ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতেপারে, তাহলে দেশের পর্যটন খাত বিশ্বমানের হয়ে উঠতে পারবে। এই চুক্তি শুধু একটি রিসোর্টের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের আতিথেয়তা পরিষেবার জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

Read Previous

ঈদের টানা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়, ৬০০ কোটি টাকার বাণিজ্যে চাঙা পর্যটন খাত

Read Next

বর্ষাকালে পাহাড় ভ্রমণ: সতর্কতা অবলম্বন করে উপভোগ করুন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular