১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত: জ্বালানি সুইচ বন্ধ হয়ে যাওয়াই ছিল বিপর্যয়ের মূল কারণ

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ১২ জুনের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় ভারতীয় শহর আহমেদাবাদে বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ১৭১ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে তদন্ত সংস্থার প্রাথমিক রিপোর্ট। এতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে—জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই দুই ইঞ্জিন একসঙ্গে অচল হয়ে পড়ে, এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

বিমানটির উড্ডয়নের পরপরই ককপিটে পাইলটদের মধ্যে এক বিস্ময়কর কথোপকথনের রেকর্ড পাওয়া গেছে। একজন পাইলট জিজ্ঞেস করছেন, “তুমি বন্ধ করে দিলে কেন?”—অন্যজন জবাব দিচ্ছেন, “আমি কিছু করিনি।” এই রেকর্ডই তদন্তকারীদের মধ্যে নতুন সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) বলছে, উড্ডয়নের মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরই বিমানটির দুটি ইঞ্জিনের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ ‘রান’ থেকে ‘কাট অফ’ অবস্থায় চলে যায়। এতে জ্বালানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, এবং ইঞ্জিনদ্বয় বন্ধ হয়ে পড়ে।

ঘটনার এক মিনিটের মধ্যেই পাইলটরা আতঙ্কিত কণ্ঠে ‘মে ডে’ সংকেত পাঠান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে—যা আন্তর্জাতিকভাবে চরম বিপদ সংকেত হিসেবে পরিচিত।

ব্ল্যাকবক্সের তথ্য ও পাইলটদের অবস্থা

দুর্ঘটনার পরপরই ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রথম ব্ল্যাকবক্সটি উদ্ধার হয় পরদিনই এবং দ্বিতীয়টি উদ্ধার হয় ১৬ জুনে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে।

প্রাপ্ত ব্ল্যাকবক্স ডেটা বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত ১৫ পাতার রিপোর্টে বলা হয়, পাইলট ও ক্রুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনায় সক্ষম ছিলেন। দুই পাইলটই পূর্বে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়েছিলেন এবং তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলও সন্তোষজনক ছিল। ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়ালের ছিল ৮২০০ ঘণ্টা ফ্লাইট অভিজ্ঞতা এবং তিনি একজন লাইনে ট্রেনিং ক্যাপ্টেন ছিলেন। কো-পাইলটের অভিজ্ঞতা ছিল ১১০০ ঘণ্টার।

জ্বালানির মান নিয়ে সংশয় নেই

রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানটিতে ব্যবহৃত জ্বালানির নমুনা পরীক্ষা করে ‘সন্তোষজনক’ ফলাফল পাওয়া গেছে। এর আগে বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল, জ্বালানি দূষণ বা জমাট বাঁধার কারণেও ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে এএআইবি নিশ্চিত করেছে, ব্যবহৃত জ্বালানিতে এমন কোনো সমস্যা ছিল না।

২৬০ প্রাণহানির এই ঘটনায় এখন কী চলছে?

দুর্ঘটনায় ২৪২ আরোহীর মধ্যে ২৩০ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রুর সবাই নিহত হন। কেবল একজন ব্রিটিশ নাগরিক অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এখন তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষা করছে বিশ্ব। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এই দুর্ঘটনা হতে পারে এক বড় শিক্ষা।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

Read Previous

 বৃষ্টির বিরতির পর চিরচেনা রূপে ফিরেছে কক্সবাজার, সৈকতে পর্যটকদের ঢল

Read Next

মিটফোর্ডে নৃশংস হত্যাকাণ্ড: দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের ঘোষণা আইন উপদেষ্টা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular