
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
পর্যটন সংবাদ প্রতিবেদক: টানা ১০ দিনের টানা বৃষ্টির পর আজ কক্সবাজারে দেখা মিলেছে রৌদ্রোজ্জ্বল এক সকালে। আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনের ফলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে লাখো পর্যটকের ঢল নামে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ছিল উপচেপড়া ভিড়। সকালের স্নান শেষে বিকেলে অনেকেই উপভোগ করেছেন সাগরপাড়ের মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত।
সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, হাজার হাজার পর্যটক বালিয়াড়ি পেরিয়ে সমুদ্রে গোসলে মেতেছেন। অধিকাংশ পর্যটক হাঁটু পানি পর্যন্ত গিয়ে গোসল করছিলেন এবং নিরাপত্তার জন্য লাইফ গার্ড কর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলছিলেন। সৈকতের বালুকাবেলায়ও ছিল আনন্দমুখর পরিবেশ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা ঘোড়ার পিঠে কিংবা বিচ বাইকে চড়ে উপভোগ করছেন মুহূর্তগুলো। অনেকেই ছাতার নিচে বসে সাগরের ঢেউ আর হাওয়া উপভোগ করেছেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মেহজাবিন পারভীন বলেন, “বর্ষাকাল, তাই ভাবছিলাম হয়তো সারাদিন বৃষ্টির মধ্যেই থাকতে হবে। কিন্তু এসে দেখি আকাশ ঝকঝকে, সমুদ্রস্নানও করলাম, অনেক মজা করলাম। প্রথমবার ঘোড়ায় চড়াও করলাম!”
আরেক পর্যটক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টির মাঝে সাগর দেখব বলে এসেছিলাম। কিন্তু আজ একটুও বৃষ্টি হলো না, তাই মনটা একটু খারাপ। তবে সূর্যাস্তের দৃশ্য সব মন খারাপ দূর করে দিয়েছে।”
বিকেলে কেবল পর্যটকই নয়, স্থানীয় দর্শনার্থীরাও দলে দলে হাজির হন সমুদ্রপাড়ে। পর্যটকদের এই ঢল দেখে উচ্ছ্বসিত সৈকতপাড়ের হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
ছবির দোকানের ফটোগ্রাফার সাইফুল আলম বলেন, “অনেকদিন পর এমন পর্যটক দেখছি কক্সবাজারে। বৃষ্টির কারণে এতদিন তেমন কোনো আয় হয়নি। আজ ভালোই ছবি তোলা হয়েছে, ব্যবসাও হয়েছে।”
সুগন্ধা পয়েন্টে শামুক-ঝিনুক বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, “গত ১০ দিন বৃষ্টিতে একটাও বিক্রি হয়নি। আজ শুধু সকালে ১০ হাজার টাকার মতো বেচাকেনা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, ভালো দিন গেছে।”
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ছিল লাইফ গার্ড সংস্থার কর্মীরা। সাগরের পাড়জুড়ে ছিল মাইকিং, টহল এবং সতর্ক নজরদারি।
সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার প্রকল্প কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান বলেন, “আজ পুরো দিন রৌদ্রজ্জ্বল ছিল, তাই সকালে তিনটি প্রধান পয়েন্টে ৮০ হাজারেরও বেশি পর্যটক ছিল। বিকেল নাগাদ সংখ্যাটা লাখ ছুঁয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছি। সাগর ছিল উত্তাল, তাই প্রতিটি পয়েন্টে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল।”
আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. কামরুজ্জামান জানান, “গত ১০ দিনে কক্সবাজারে ৮৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে আজ সারাদিন ছিল রৌদ্রজ্জ্বল। এমন আবহাওয়া আগামী দুই-তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। রাতে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।”
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আবহাওয়ার এই উন্নতিতে আগামী কয়েক দিন কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে, যা স্থানীয় পর্যটন ব্যবসার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হবে।



