পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্বাধীনতা দিবসে জাতির উদ্দেশে ভাষণে স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও ভবিষ্যতের জন্য যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ইউক্রেন এখনো জয়ী হয়নি, তবে কোনোভাবেই হারেনি। ন্যায়সঙ্গত শান্তিই তার লক্ষ্য—যে শান্তিতে ইউক্রেন নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই নির্ধারণ করবে।
কিয়েভে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি ইউক্রেনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে মার্কিন দূত কিথ কেলগও উপস্থিত ছিলেন এবং ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাকে ‘অর্ডার অব মেরিট’ পদক দেওয়া হয়। কেলগ জেলেনস্কিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আমরা একসঙ্গে এটি সফল করব।” একইসঙ্গে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
ব্রিটেনের রাজা চার্লস ইউক্রেনীয়দের মনোবলের প্রশংসা করে টেকসই শান্তির আশা ব্যক্ত করেছেন। যুক্তরাজ্য ঘোষণা দিয়েছে, অন্তত ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে নরওয়ে জানিয়েছে, জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে তারা প্রায় ৬৯৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দেবে। ইউক্রেন ও সুইডেনও প্রতিরক্ষা সামগ্রী যৌথভাবে উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেন তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কুরস্কের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন লাগলেও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) সব পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
রাশিয়া দাবি করেছে, তারা দনেৎস্ক অঞ্চলের দুটি গ্রাম দখল করেছে। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। যুদ্ধ থামাতে সম্প্রতি আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠক করলেও তাতে অগ্রগতি হয়নি। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
জেলেনস্কি যদিও একাধিকবার নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের দাবি—পুতিন আলোচনায় রাজি আছেন। তবে এখনো কার্যকর কোনো আলোচ্যসূচি তৈরি হয়নি।



