
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক:দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খুব শিগগিরই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া।
গত ২৬ জুন তিনি সম্প্রসারিত রানওয়ে, নির্মাণাধীন টার্মিনাল ভবন এবং রানওয়ের লাইটিং সিস্টেম পরিদর্শন করেন। এরপর সাংবাদিকদের তিনি জানান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ইতিমধ্যেই প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি জানান, রানওয়ে সম্প্রসারণের ফলে এখন ১০,৭০০ ফুট দৈর্ঘ্যের রাবারাইজড রানওয়ে নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ১,৩০০ ফুট সমুদ্রের পানির ওপর নির্মিত হয়েছে—এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। এই ব্যতিক্রমী নির্মাণ কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছে।
বেবিচক জানায়, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই নতুন টার্মিনাল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন না হলে সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১,৭৯৪ কোটি টাকা, যার সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে সরকার। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করতে সরকারের সদিচ্ছা আরও স্পষ্ট হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে সকল প্রস্তুতি দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে।



