
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় এলাকা কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওর। প্রতি বর্ষায় এই অঞ্চলে সৃষ্টি হয় অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য আবহ। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক ছুটে আসেন এই নৈসর্গিক পরিবেশে প্রকৃতির শোভা উপভোগ করতে।
কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে নিকলী তার হাওরকেন্দ্রিক পরিচিতি এবং সৌন্দর্যের জন্য আলাদা স্থান করে নিয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই উপজেলা এখন একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। বর্ষাকালে হাওরে পানি বাড়ার সাথে সাথে এখানে তৈরি হয় জলজ রাজ্যের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, যা পর্যটকদের মনকে মোহিত করে।
নিকলীর বিখ্যাত বেড়িবাঁধটি এই অঞ্চলের মূল আকর্ষণ। এখানে দাঁড়িয়ে হাওরের বিশাল জলরাশি ও ঢেউয়ের দৃশ্য অবলোকন করা যায়। বেড়িবাঁধের পাশে রয়েছে স্পিডবোট, ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্রলার সেবা, যা পর্যটকদের হাওরের গভীরভাগে নিয়ে যায়। বালিখোলা ঘাট ও মিঠামইন বাজারের লঞ্চঘাটও এই নৌ-ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।
বর্তমানে নিকলীতে গড়ে উঠছে নতুন নতুন হোটেল ও রিসোর্ট। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান উন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসন এবং বেসরকারি উদ্যোক্তারা একযোগে কাজ করছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে এখানে রয়েছে অলওয়েদার সড়ক যোগাযোগ, যা বর্ষাকালেও চলাচলের উপযোগী।
নিকলীর হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি ছাড়াও আশেপাশে রয়েছে আরও কিছু দর্শনীয় স্থান—মিঠামইনের দিল্লীর আখড়া, অষ্টগ্রামের কুতুবশাহী মসজিদ, ইটনার শাহী মসজিদ, হাসানপুর ব্রিজ, করিমগঞ্জ-মিঠামইনের সংযোগসেতু, ও হিজলজানি হাওর। সবমিলিয়ে নিকলী ও আশপাশের হাওর অঞ্চল এখন ভ্রমণপিপাসুদের কাছে একটি চমৎকার ‘উইকেন্ড গেটওয়ে’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সহজ যাতায়াত এবং পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়নের কারণে নিকলী হাওর দ্রুতই একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণে এখানে আরও মানসম্মত রিসোর্ট, খাবারের ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভ্রমণকারীরা।
পর্যটন সংবাদ প্রতিবেদক



