আজও চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি ছুঁই ছুঁই, তাপপ্রবাহে মানুষ দিশেহারা

টানা কয়েকদিন ধরে সারাদেশে তীব্র থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। এর মাঝে অধিক তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। সেইসঙ্গে লোডশেডিংয়ের কারণে আরও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।

রোববার (১১ মে) বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ২৬ শতাংশ।

শনিবার বেলা ৩টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১৬ শতাংশ। যা চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ২৪ শতাংশ। যা ছিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এর আগে, বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে, তীব্র তাপপ্রবাহে শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালকরা অস্থির হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ। শহরের কোর্টরোড-বড়বাজার সড়কে দেখা যায় পিচ গলে যেতে।

জেলা শহরের বিভিন্নস্থানে পাওয়া যায় শরবত। তীব্র গরমে এসব শরবতের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। এ ছাড়া ডাবেরও চাহিদা বেড়েছে প্রচুর। এই গরমে বাজারে চাহিদা বেড়েছে তরমুজ আর আনারসের। সেই সুযোগে বিক্রেতা দাম হাকাচ্ছেন প্রায় দ্বিগুণ।

তীব্র তাপপ্রবাহে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ জেলাবাসীকে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহে বয়স্কদের হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি। ৩৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা পার হলেই ঝুঁকি থাকে। এ জন্য অতি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাইরে বের না হতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বেশি বেশি পানি, ও ফলমূল খেতে বলা হচ্ছে। শিশু-কিশোরদের ঘন পানি ও শরবত পান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) মুহাম্মদ মনজুরুল করিম বলেন, বিভিন্নস্থানে পিচ গলে যাচ্ছে বলে জেনেছি। সেখানে আমরা বালু ছিটিয়ে দিচ্ছি। এতে যান চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। তবে রোদের এই তীব্রতা চলমান থাকলে যান চলাচলে সামান্য বিঘ্ন ঘটতে পারে। আমরা সব সময় তদারকি করছি যেন কোনো সমস্যা না ঘটে।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, আগামী সোমবার থেকে তাপমাত্রা একটু কমতে পারে। এ ছাড়া ১৫ মে পর্যন্ত তাপপ্রবাহ চলমান থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এরমধ্যে বৃষ্টির কোনো আভাস নেই।

Read Previous

আজ বিশ্ব মা দিবস

Read Next

অপার সম্ভাবনার এক পর্যটন খাত ‘নিদ্রার চর’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular