পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে বিকেলের পর যেন শুরু হয় আরেক নগর সংস্কৃতি — “আগারগাঁও কেইকপট্টি”। কেক, পুডিং, ফুচকা, স্যান্ডউইচ, পানীয়—সব মিলিয়ে পুরো এলাকা পরিণত হয় খাবারের অস্থায়ী বাজারে। এই অনিয়ন্ত্রিত দোকান বসানো শুধু ফুটপাত দখলই করছে না, সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা মানুষদের জন্য ভোগান্তির নতুন নাম হয়ে উঠেছে।
বিকেল পড়তেই ফুটপাত থেকে রাস্তা দখল
প্রতিদিন বিকেল সাড়ে চারটার পর থেকেই শুরু হয় এই দখল উৎসব। ফুটপাতের শুরুর দিক থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রবেশপথ পর্যন্ত বসে সারি সারি বিক্রেতা। কেউ ঠেলাগাড়ি, কেউ প্লাস্টিক টেবিল, আবার কেউ বড় কন্টেইনার নিয়ে খাবার সাজিয়ে বসে। দোকানদারের চিৎকার, ক্রেতার ভিড় আর ধাক্কাধাক্কি মিলিয়ে এলাকা রীতিমতো মিনি বাজারে পরিণত হয়।

এক পথচারীর ভাষায় —
“রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসতে আসতে মনে হয় নির্বাচন অফিস না, কোনো মেলা দেখতে যাচ্ছি। একটু জায়গা ফাঁকা নেই হাঁটার!”
নির্বাচনী সেবা নিতে এসে বিড়ম্বনায় মানুষ
জাতীয় পরিচয়পত্রে সংশোধন, নতুন করে নিবন্ধন বা হারানো কার্ডের জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ আসেন এই অফিসে। তাদের অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন, আর সেই সময়ই দোকানদাররা খাবারের প্যাকেট নিয়ে ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে।
একজন বৃদ্ধ নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন —
“আমি ভোটার কার্ড ঠিক করাতে এসেছি। কিন্তু অফিসের সামনে এসে দেখি চারপাশে কেক আর জুসের দোকান। সরকারি জায়গায় এভাবে ব্যবসা হয় কীভাবে?”
আরেক নারী পথচারী বলেন —
“বাচ্চা নিয়ে এসেছি কার্ড আপডেট করতে। কিন্তু এত ভিড় আর ঠেলাঠেলি যে, বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে টিকে থাকাই কষ্ট। বিক্রেতাদের যেন কেউ থামাতে পারে না।”
যানজট ও নিরাপত্তাহীনতা
ফুটপাত দখলের কারণে ক্রমেই রাস্তা সরু হয়ে যায়। রিকশা, মোটরসাইকেল এবং গাড়ি একসাথে আটকে পড়ে। ছোটখাটো সংঘর্ষ লেগেই থাকে।
এক মোটরসাইকেলচালকের অভিযোগ —
“রাস্তার ওপরই দাঁড়িয়ে ক্রেতারা কেক কিনছে। তার ওপর প্লাস্টিকের টেবিল রাস্তায় রেখে বিক্রেতারা তাকিয়ে থাকে ট্রাফিক পুলিশের দিকেই, যেন কেউ কিছু বললেই সরবে।”
প্লাস্টিক বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যস্ত
যেখানে-সেখানে ফেলে রাখা হয় কেকের প্যাকেট, একবার ব্যবহারযোগ্য চামচ, কাপ আর প্লাস্টিক প্লেট। সন্ধ্যার পর পুরো রাস্তা বর্জ্যে ঢেকে যায়। বৃষ্টি হলে এই প্লাস্টিক বর্জ্য নর্দমা আটকে রেখে পানি জমে থাকে।
এক স্থানীয় দোকানদার বলেন —
“সন্ধ্যার দিকে এমন গন্ধ হয় যে দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। প্লাস্টিক আর খাবারের বর্জ্য জমে নোংরার ডাম্পিং জোন হয়ে যায় রাস্তা।”
স্থানীয়দের দাবি — দ্রুত পদক্ষেপ নিক প্রশাসন
এলাকাবাসী ও অফিসে আসা সাধারণ মানুষ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছেন,
“আগারগাঁওয়ে সরকারি দপ্তরের সামনে যদি শৃঙ্খলা না থাকে, তাহলে অন্য জায়গার কী হবে?”
তাদের দাবি, ফুটপাত সম্পূর্ণ দখলমুক্ত রাখতে হবে এবং বিক্রেতাদের জন্য আলাদা নির্ধারিত জায়গা করা হোক যাতে পথচারী ও সেবা প্রার্থীদের ভোগান্তি না হয়।
সরকারি সেবা কেন্দ্রে যাওয়ার পথ যদি খাবারের বাজারে পরিণত হয়, তাহলে সেটি শুধু অস্বস্তিকর নয়, সেটি নাগরিক অধিকারহরণও। আগারগাঁওয়ের “কেইকপট্টি” এখন শুধু একটি এলাকা নয় — এটি শহর ব্যবস্থাপনার অকার্যকারিতার এক স্পষ্ট চিত্র।
প্রশ্ন হলো — নাগরিকদের এই দৈনন্দিন ভোগান্তি কি প্রশাসনের নজরে পড়বে, নাকি এটি আরেক ‘চলতে থাকা অভ্যাস’ হয়ে যাবে?



