
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: হার্নিয়া এমন একটি স্বাস্থ্য সমস্যা যা শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। এটি মূলত পেটের দেওয়ালের দুর্বলতার কারণে হয়ে থাকে। ওই দুর্বল অংশ দিয়ে পেটের ভেতরের অঙ্গ বা চর্বি বাইরে বেরিয়ে আসে এবং তখন কুঁচকি বা নাভির আশপাশে অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দেয়। অনেক সময় এটি ব্যথাযুক্ত হয়, আবার কখনো ব্যথাহীনও থাকতে পারে।
হার্নিয়ার ধরন
চিকিৎসকরা বলছেন, হার্নিয়া কয়েক ধরনের হতে পারে। এর মধ্যে ইনগুইনাল (কুঁচকিতে), আম্বিলিকাল (নাভিতে) এবং হাইয়াটাল (ডায়াফ্রামে) হার্নিয়া বেশি দেখা যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত কুঁচকির দিকে এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে নাভির কাছাকাছি হার্নিয়া হওয়ার প্রবণতা বেশি।
কেন হয় হার্নিয়া
জন্মগত ত্রুটি, বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশির দুর্বলতা, অতিরিক্ত ওজন, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্টেটের সমস্যায় চাপ দিয়ে প্রস্রাব করা, দীর্ঘদিনের কাশি, অতিরিক্ত ভারী ওজন তোলা কিংবা ধূমপানের অভ্যাস হার্নিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। সময়মতো চিকিৎসা না করলে জটিলতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে যখন বেরিয়ে আসা অঙ্গ জড়িয়ে গিয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তখন অসহ্য ব্যথা ও বমি শুরু হয়। এই অবস্থা প্রাণঘাতী হতে পারে।
চিকিৎসা কী
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হার্নিয়ার চিকিৎসা কোনো ওষুধে সম্ভব নয়। একমাত্র উপায় হলো অস্ত্রোপচার। বর্তমানে হার্নিয়া অপারেশনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। মেশ বা জালি বসিয়ে হার্নিয়া রিপেয়ার করা হয়। ল্যাপারোস্কপি সার্জারি বা মিনিমালি ইনভেসিভ (MIS) পদ্ধতির কারণে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং ব্যথাও কম হয়। উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে TAPP, TEP, eTEP, TAR এবং IPOM।
আধুনিক প্রযুক্তি রোগীর পাশে
ল্যাপারোস্কপিতে কয়েকটি ছোট ছিদ্র করে দূরবীনের মাধ্যমে অপারেশন করা হয়, ফলে বড় কাটাছেঁড়া লাগে না। এতে রোগীরা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। এখন রোবটিক সার্জারিও হার্নিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে, যা আরো নির্ভুল এবং রোগীবান্ধব।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, হার্নিয়া দেখা দিলে অবহেলা নয়—দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করানোই সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান।



