২৩/০৪/২০২৬
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেট্রোরেলে যাত্রী বেড়েছে, কিন্তু ঋণ শোধে টিকিট বিক্রির আয় যথেষ্ট নয়

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ঢাকার জনজীবনে এক নতুন গতি এনেছে মেট্রোরেল। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার লাখ যাত্রী মেট্রোরেলে চলাচল করছেন। অফিস শুরুর সময় কিংবা ছুটির ব্যস্ত মুহূর্তে ট্রেনে ঠাঁই পাওয়া যেন অনেকের জন্য ‘ভাগ্যের ব্যাপার’। এমন চাপের মধ্যেও মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ টিকিট বিক্রির মাধ্যমে যে আয় করছে, তা দিয়ে প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ ঋণের কিস্তি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মেট্রোরেল থেকে অনিরীক্ষিত আয় হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। অথচ আগামী ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ঋণের কিস্তি বাবদ দিতে হবে ৪৬৫ কোটি থেকে ৭৪০ কোটি টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ আয়ের চেয়ে ঋণ পরিশোধের বোঝা বেশি।

ডিএমটিসিএল–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, “ট্রেনের সংখ্যা ও মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো এবং স্টেশনগুলোর অব্যবহৃত জায়গা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে আয় বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।”

২০১২ সালে শুরু হওয়া এমআরটি-৬ প্রকল্পের ব্যয় এখন দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫৯ শতাংশ এসেছে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা থেকে নেওয়া ঋণ হিসেবে। জাইকার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, ৩০ বছরে এই ঋণ সুদসহ পরিশোধ করতে হবে। যদিও প্রথম ১০ বছর ছিল গ্রেস পিরিয়ড। এখন সেই কিস্তির সময় শুরু হয়েছে।

ঢাকা শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত এলাকা দিয়ে যাওয়া এই উড়ালপথ মেট্রোরেল যাত্রীদের সময় বাঁচালেও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, “ভাড়া বাড়ানো সম্ভব নয়, কারণ তা এখনো আশপাশের দেশের তুলনায় বেশি। তাই আয় বাড়াতে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় ও ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি স্টেশনগুলোর বাণিজ্যিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।”

উল্লেখ্য, বর্তমানে রাত ১০টার পর মেট্রোরেল বন্ধ থাকে এবং ট্রেন চলে ৮-১২ মিনিট অন্তর। প্রকল্প পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ব্যস্ত সময়ে প্রতি সাড়ে তিন মিনিটে একটি ট্রেন চালু থাকবে। আর কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ শেষ হলে যাত্রীসংখ্যা এবং আয় উভয়ই বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সবকিছু সত্ত্বেও প্রকল্পের পুরো ব্যয় টিকিট বিক্রির মাধ্যমে তোলা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারকে ভর্তুকি দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে এই ঋণ পরিশোধে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন পাঁচটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য বিষয়ে গভীর চিন্তা প্রয়োজন।

সূত্র: ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)

Read Previous

শিক্ষার্থীদের জন্য ফিরছে স্বস্তির দিন: মাইলস্টোন কলেজে ধাপে ধাপে শুরু ক্লাস

Read Next

ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশে বিলম্ব, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular