বিএনপির ইতিহাসে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি: বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া

খালেদা জিয়ার প্রয়াণ

ছবি : এ আই জেনারেটেড

নিজস্ব প্রতিবেদক। পর্যটন সংবাদ : বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই—এমন খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক ও আলোচনা। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি করা হয়।

বিএনপি সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং শেষ কয়েকদিন আইসিইউতে অবস্থান করছিলেন। তার শারীরিক অবস্থা ক্রমাগত অবনতি হচ্ছিল বলে দলীয় ও পারিবারিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

দলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বার্তায় বলা হয়, ফজরের নামাজের পরপরই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এই খবরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে সারাদেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তার শিক্ষাজীবন কেটেছে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে তিনি তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন সামাজিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর এক সংকটময় সময়ের মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে আসেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন। ১৯৮৪ সালে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়।

আশির দশকে সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার ভূমিকা তাকে “আপসহীন নেত্রী” হিসেবে পরিচিত করে তোলে। দীর্ঘ আন্দোলনকালীন সময়ে তাকে একাধিকবার কারাবরণ ও গৃহবন্দিত্বের মুখে পড়তে হয়, কিন্তু রাজনৈতিক অবস্থান থেকে তিনি সরে দাঁড়াননি।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা পায়। শিক্ষা খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে উপবৃত্তি কর্মসূচি ও বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা হয়, যা ব্যাপক প্রশংসা পায়।

২০০১ সালে পুনরায় ক্ষমতায় এসে তিনি চারদলীয় জোট সরকার পরিচালনা করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার নেতৃত্ব আলোচিত হয়। ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় স্থান দেয়।
রাজনৈতিক জীবনের শেষভাগে তাকে একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয় এবং দীর্ঘ সময় কারাবন্দী থাকতে হয়। এসব ঘটনাকে ঘিরে দেশ-বিদেশে রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি হয়।

তার নামে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান এবং নারী নেতৃত্বের এক শক্তিশালী উদাহরণ। তার চলে যাওয়ার খবরে দেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদক : মুহাম্মদ শফিকুল আশরাফ

Read Previous

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯৬৯ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক, নিরাপত্তা জোরদারের বার্তা এপিবিএনের

Read Next

থার্টিফার্স্ট নাইট ঘিরে কক্সবাজারে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা, ৫ লাখ পর্যটক সামলাতে মাঠে নারী গোয়েন্দাসহ বাড়তি বাহিনী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular