
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক। পর্যটন সংবাদ : ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি। প্রশাসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, থার্টিফার্স্ট নাইটে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোতে প্রায় ৫ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, বিশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রহণ করেছে বিশেষ ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এবারের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো সাদা পোশাকে নারী গোয়েন্দা সদস্যদের মোতায়েন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র জানায়, থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কয়েক দিন আগেই প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সভায় পর্যটন এলাকাগুলোর নিরাপত্তা, যানবাহন চলাচল, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুরো কক্সবাজার শহর ও পর্যটন জোনকে একাধিক সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরের জন্য আলাদা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ফোর্স নির্ধারণ করা হয়েছে।
সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, কলাতলী, হোটেল-মোটেল জোন, ইনানী, হিমছড়ি, বাস টার্মিনাল এবং শহরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল। ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, ডিবি, র্যাব ও আনসার সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষ করে রাতের সময় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
নারী ও শিশু পর্যটকদের নিরাপত্তাকে এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ভিড়ের মধ্যে নজরদারির জন্য সাদা পোশাকে নারী গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। তারা পর্যটকদের সঙ্গে মিশে থেকে সন্দেহজনক আচরণ পর্যবেক্ষণ করবেন এবং নারী পর্যটকদের হয়রানি, ইভটিজিং বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ইউনিটকে জানাবেন। প্রশাসনের মতে, এই নারী গোয়েন্দা উপস্থিতি অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নিরাপত্তা জোরদারে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা। একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন হলে ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমেও ভিড় ও চলাচল পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হবে। একই সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে অস্থায়ী পুলিশ বক্স বসানো হচ্ছে, যাতে পর্যটকরা দ্রুত সহায়তা পেতে পারেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সৈকত এলাকায় মাদক সেবন ও বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। আতশবাজি ফোটানো, উচ্চ শব্দে গান বাজানো এবং গভীর রাতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভিড় জমায়েতের ওপর কড়া নজরদারি থাকবে। হোটেল ও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে অতিথিদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ এবং কোনো সন্দেহজনক বিষয় চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্বেচ্ছাসেবক দল। সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপদ রাখতে লাইফগার্ডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। রাতের বেলায় সমুদ্রে নামা নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে লাল পতাকা টানানো হবে। মাইকিংয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, থার্টিফার্স্ট নাইটে পর্যটকদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তারা সবাইকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যেকোনো সমস্যায় নিকটস্থ পুলিশ সদস্য, ট্যুরিস্ট পুলিশ বা কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, থার্টিফার্স্ট নাইট কক্সবাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট খাতে বড় ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম হয়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে পর্যটকদের আস্থা বাড়ে এবং উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকে।
সব মিলিয়ে, ইংরেজি নববর্ষের আগমনে কক্সবাজার যেন নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আনন্দমুখর থাকে—সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনের এই ব্যাপক প্রস্তুতি। নারী গোয়েন্দাসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের।
প্রতিবেদক : ইসলাম রাইসুল



