হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯৬৯ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক, নিরাপত্তা জোরদারের বার্তা এপিবিএনের

শাহজালাল বিমানবন্দরে ইয়াবা সহ আটক

ছব : সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক। পর্যটন সংবাদ : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে মাদক চোরাচালান ঠেকাতে চলমান অভিযানে আবারও সাফল্য পেয়েছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে আসার পর ৯৬৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. নবী হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল এলাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এপিবিএন সূত্র জানায়, আটক হওয়া ব্যক্তি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রোববার দুপুরে নভোএয়ারের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় পৌঁছান মো. নবী হোসেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার গতিবিধির ওপর নজর রাখে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটি দল। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের কার পার্কিংয়ের সামনের সড়কে তাকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করায় তাকে এপিবিএনের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।

এপিবিএন জানায়, পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ে চিকিৎসকের সহায়তায় তার দেহে বিশেষ উপায়ে বহন করা কিছু বস্তু শনাক্ত করা হয়। প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষার মাধ্যমে সেগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তিনটি পোটলায় মোড়ানো ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গণনা করে মোট ৯৬৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়, যা জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অভ্যন্তরীণ রুট ব্যবহার করেও মাদক পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা বিমানবন্দর নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের কারণে এমন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অপারেশনাল কমান্ডার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, “বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে মাদক চোরাচালানসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হওয়ায় এখানে অপরাধ দমনে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, টেকনাফসহ সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো থেকে মাদক প্রবাহ বন্ধে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি বিমানবন্দরকেন্দ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। সাম্প্রতিক এই আটক প্রমাণ করে, আধুনিক কৌশল ব্যবহার করলেও অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যেতে পারছে না।

এদিকে উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেটগুলোর উৎস, নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের চিহ্নিত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।শাহাজ

সব মিলিয়ে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই অভিযান আবারও স্পষ্ট করলো যে, মাদকবিরোধী লড়াইয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সক্রিয় ও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে বিমানবন্দরকে অপরাধমুক্ত রাখতে তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

প্রতিবেদক : মুহাম্মদ শফিকুল আশরাফ

Read Previous

ফিলিপাইনে যাতায়াতে কড়াকড়ি: ই-ট্রাভেল নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, না মানলে বোর্ডিং ও প্রবেশে বাধা

Read Next

বিএনপির ইতিহাসে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি: বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular