
যমুনা সেতুর পশ্চিম পাশেই গড়ে উঠছে দেশের অন্যতম বেসরকারি সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এরই মধ্যে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। এখন রাস্তাসহ অবকাঠামো ও ভূমি উন্নয়ন কাজ চলমান,এই কাজগুলো খুব দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করা যায়। সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগের সুবিধা থাকায় এই ইকোনমিক জোনে ৪০০টি প্লটে গড়ে উঠবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ছোট-বড় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চলটি ঘিরে কর্মসংস্থান হবে কয়েক লাখ মানুষের।
যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়ে গড়ে উঠছে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল-১। যমুনার তীরে সিরাজগঞ্জ সদর ও বেলকুচি উপজেলার ১ হাজার ৪১ একর জমির উপর গড়ে তোলা হচ্ছে এটি।
পরিকল্পিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ রাখতে মোট ভূমির ৬০ শতাংশ কারখানার জন্য বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। বাকি জমিতে খেলার মাঠ, লেক, বনায়ন, বিনোদন কেন্দ্র, হাসপাতাল, রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেম, সোলার প্যানেল পার্কসহ নানা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলটি চালু হলে ৪০০টি প্লটে গড়ে উঠবে ছোট-বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধার পাশাপাশি সড়ক, রেল এবং নৌপথে উৎপাদিত পণ্য সরবরাহের সুবিধা থাকায় বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে এখানে দেশি-বিদেশি অনেক শিল্প উদ্যোক্তা পরিদর্শন করে কারখানা প্রতিষ্ঠার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু জানান, এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের মাধ্যমে দেশে নতুন নতুন বিনিয়োগকারী সৃষ্টির পাশাপাশি এই অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এখন পর্যন্ত পুরো প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৭০ শতাংশ হলেও শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য প্রতিটি প্লট প্রস্তুত বলে জানান অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিচালক।
সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিচালক শেখ মনোয়ার হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত পুরো প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৭০ শতাংশ হলেও শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য প্রতিটি প্লট প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার এই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে চূড়ান্ত নিবন্ধন দেয় বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বেজা)।



