
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ব্রাসেলস, ১৩ মে ২০২৬: ট্রেন ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় ও সুবিধাজনক করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নতুন একটি বড় পরিকল্পনা উন্মোচন করতে যাচ্ছে। ‘এক যাত্রা, এক টিকিট’ নীতির আওতায় রেল কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করা হবে তাদের ওয়েবসাইটে প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির টিকিট বিক্রি করতে এবং বিভিন্ন বুকিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করতে।
ইইউ কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো বিমান ভ্রমণের বিকল্প হিসেবে রেলপথকে জনপ্রিয় করা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো। বর্তমানে ইউরোপের রেল নেটওয়ার্ক খণ্ডিত ও জাতীয় পর্যায়ে বিভক্ত থাকায় একাধিক দেশে ভ্রমণের সময় যাত্রীদের আলাদা আলাদা অপারেটরের টিকিট কিনতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও জটিল। নতুন নিয়ম চালু হলে যাত্রীরা একটি মাত্র প্ল্যাটফর্ম থেকে পুরো ভ্রমণের টিকিট কিনতে পারবেন।
তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন রেল অপারেটররা। ইউরোপীয় রেলওয়ে কমিউনিটির (সিইআর) প্রধান আলবার্তো মাজোলা এটিকে “অভূতপূর্ব নিয়ন্ত্রক ক্ষমতার অপব্যবহার” বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিযোগীর পণ্য বিক্রিতে বাধ্য করার কোনো নজির নেই।
ইইউ আইনপ্রণেতা ভিভিয়েন কস্তানজো বলেছেন, “ইউরোপের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত ট্রেন যাত্রার টিকিট বুকিং এখনও অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল। সহজ বুকিং এবং নির্ভরযোগ্য সংযোগ ছাড়া রেল স্বল্প দূরত্বের বিমান ভ্রমণের বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারবে না।”
সমর্থকরা জানিয়েছেন, বুকিং প্রক্রিয়া সহজ হলে ট্রেন যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ জটিল বুকিংয়ের কারণে ট্রেন ভ্রমণ এড়িয়ে যান। এছাড়া ট্রেন টিকিট বুক করতে ফ্লাইটের তুলনায় গড়ে ৭০ শতাংশ বেশি সময় লাগে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (টিঅ্যান্ডই) মনে করে, এই উদ্যোগ রেল অপারেটরদের জন্য আন্তর্জাতিক সেবা উন্নয়ন ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির সুযোগ করে দেবে। উল্লেখ্য, ইউরোপে পরিবহন খাতের মোট কার্বন নিঃসরণে রেলের অবদান মাত্র ০.৩ শতাংশ, বিপরীতে বিমান চলাচলের অবদান প্রায় ১২ শতাংশ।
নতুন আইনটি বাস্তবায়নের জন্য ইউরোপীয় সংসদ ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলবে।
সূত্র: এএফপি


