
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গভীর ও হৃদয়বিদারক অধ্যায় ‘জুলাই হত্যাকাণ্ড’। এ হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও পরিবেশ অধিকারকর্মী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, শুধু হত্যাকারীরা নয়, যারা নির্দেশ দিয়েছেন ও পালাতে সহায়তা করেছেন, তাঁদের বিচার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: আলোচনা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “জুলাই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতারা কীভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেন, সেটি বিচারের আওতায় আনা জরুরি। হত্যাকারীদের সমর্থকেরা এখনো বিভিন্ন সেক্টরে সক্রিয়। তারা না থাকলে খুনিরা পালিয়ে যেতে পারত না।”
তিনি আরও বলেন, “যেসব অভিযুক্ত বিদেশে পলাতক, তাঁদের অনুপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালে বিচার চললেও, প্রকৃত অর্থে তারা শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছে না। এটি জাতীয় ন্যায়ের পথে এক বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদল না হলে, এসব বিচার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে না।”
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, জুলাই হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিচার এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলায় প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণ হবে আগামী ৩ আগস্ট।
এ সময় আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের স্বাগত বক্তব্য দেন এবং ‘জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ’ ও মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তে নিহতদের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে “ট্রায়াল অব জুলাই কার্নেজ” শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এই ঘটনার বিচার নিশ্চিত না হলে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পর্যটন খাতও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিচারহীনতা ও অপরাধীদের পলায়নের ঘটনা পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আস্থার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করে।
– পর্যটন সংবাদ প্রতিবেদক



