১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজা, লাখো মানুষের শ্রদ্ধা

হাদির জানাজা

হাদির জানাজা সম্পন্ন

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা শনিবার রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা আড়াইটায় শুরু হওয়া এই জানাজায় অংশ নেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক আন্দোলন, ছাত্র ও তরুণ সমাজের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ঢল নামে জানাজা প্রাঙ্গণে।

শহীদ হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজা শুরুর আগে থেকেই দক্ষিণ প্লাজা ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বহু মানুষ সকাল থেকেই সেখানে জড়ো হন প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে। জানাজা চলাকালে পুরো এলাকা এক আবেগঘন পরিবেশে পরিণত হয়।

জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও জানাজায় অংশ নেন। উপস্থিত অনেকেই শহীদ শরিফ ওসমান হাদির অবদান স্মরণ করে তাকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক সাহসী কণ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এর আগে শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, শনিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সময় সামান্য পরিবর্তন করে জানানো হয় যে, জানাজা শুরু হবে দুপুর আড়াইটায়। সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়টি আগেভাগেই গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়।

হাদির জানাজায় উপচে পড়া ভীর 

জানাজা উপলক্ষে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত নির্দেশনায় জানানো হয়, জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের কোনো ধরনের ব্যাগ বা ভারী বস্তু সঙ্গে না আনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

শরিফ ওসমান হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বক্তব্য ও আন্দোলনের কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তার মৃত্যুতে আন্দোলনকেন্দ্রিক রাজনীতি ও তরুণ সমাজে গভীর শোক নেমে এসেছে।

জানাজা শেষে অনেকেই বলেন, শহীদ হাদির মৃত্যু একটি প্রজন্মের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিলেও তার আদর্শ ও অবস্থান আন্দোলনের ভেতর বেঁচে থাকবে। অনেকে তাকে সাহস, স্পষ্টতা ও আপসহীনতার প্রতীক হিসেবে স্মরণ করেন।

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজা শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং তা পরিণত হয় একটি বৃহৎ গণসমাবেশে। সেখানে মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না, বরং সময়ের এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

Read Previous

শরিফ ওসমান হাদির জানাজা আজ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়, নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ে কঠোর নির্দেশনা

Read Next

জাতীয় কবি কাজী নজরুলের পাশে চিরনিদ্রা: লাখো মানুষের শ্রদ্ধায় বিদায় নিলেন শরীফ ওসমান হাদি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular