
চীনে এখন প্রায়ই দেখা যায় থিমযুক্ত ট্রেন। বিশেষ করে পর্যটনের হাত ধরে বেড়েছে এমন ট্রেনের জনপ্রিয়তা। দেশের পর্যটন সংশ্লিষ্ট ট্রেনগুলোতেও আনা হয়েছে সংস্কার। আর বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি এর সুফল ভোগ করছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ নাগরিকরাও।
ট্রেনে ভ্রমণ নিয়ে চীনে এখন আরও পরিবেশবান্ধব ও আরামদায়ক কিছু সেবা চালু হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেনের জন্য বিভিন্ন থিমভিত্তিক রুটকে কী করে আরও জনপ্রিয় ও উন্নত করা যায়, সেই পরিকল্পনাও নিয়েছে বিভিন্ন স্থানীয় প্রশাসন। সম্প্রতি চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং চায়না স্টেট রেলওয়ে গ্রুপসহ ৯টি সংস্থার প্রকাশিত নির্দেশিকায় এসব তথ্য জানানো হয়।
পর্যটন ট্রেন সম্পর্কিত ভ্রমণ পণ্যের অনুসন্ধান জানুয়ারির একই সময়ের তুলনায় তিন গুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে চিয়াংসু প্রদেশের সুচৌ ভিত্তিক অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি থোংছেং ট্রাভেল।
একই সঙ্গে দেখা গেছে চীনে এখন পর্যটন ট্রেনগুলো বয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে জনপ্রিয় ভ্রমণ মাধ্যম। তোংছেং জানিয়েছে, ২০২৪ সালে পর্যটন ট্রেনে টিকিট বুকিং করা প্রায় ৮০ শতাংশ ভোক্তার বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি।
কানসু প্রদেশ থেকে সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, হেইলংচিয়াং প্রদেশ থেকে ইনার মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং চীন-লাওস রেলপথ সংযুক্ত পর্যটন ট্রেন এখন জ্যেষ্ঠ ভ্রমণকারীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।
চীনে বিশ্বের বৃহত্তম যাত্রীবাহী রেল নেটওয়ার্ক থাকলেও পর্যটন ট্রেন পরিষেবা এখনও উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালে, চীন মোট ১,৮৬০টি পর্যটন ট্রেন পরিচালনা করেছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। মহামারির আগের সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি বলে জানিয়েছে চায়না রেলওয়ে।
থোংছেং গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র গবেষক লি চুন জানালেন, ‘প্রচলিত ভ্রমণ পদ্ধতির তুলনায় পর্যটন ট্রেন বেশি আরামদায়ক। এতে খাদ্য, আবাসন, পরিবহন ও দর্শনীয় স্থান দেখার সুযোগ একসঙ্গে পাওয়া যায়, যা সিনিয়র ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।’
লি আরও বলেন, ‘আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে, চীনে সিনিয়র পর্যটকদের উপযোগী পর্যটন ও সাংস্কৃতিক পণ্যের চাহিদা আরও বাড়বে। পর্যটন ট্রেনের পরিষেবার গুণমান উন্নয়নের এখনো অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে পর্যটন ট্রেন বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজের মতো একটি সফল ব্যবসায়িক মডেল হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে, বসন্ত উৎসবের ছুটির পর চীনের অভ্যন্তরীণ পর্যটন বাজার আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। কমতে শুরু করেছে ফ্লাইট টিকিট ও হোটেলের দাম। অফ-সিজনে ভ্রমণ করা জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য যা আরেকটি বাড়তি সুযোগ।
তোংছেং ট্রাভেল জানিয়েছে, বসন্ত উৎসবের পর ৫৫ থেকে ৭০ বছর বয়সী সিনিয়র পর্যটকদের ভ্রমণ সংক্রান্ত অনুসন্ধান বেড়েছে। অফিস কর্মী ও শিক্ষার্থীদের তুলনায় সিনিয়র পর্যটকরা তুলনামূলকভাবে আরও নমনীয় সময়সূচি অনুসরণ করতে পারেন এবং ভিড় এড়াতে অফ-পিক সময়ে ভ্রমণ করতে পারেন।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, এ সময়কার চীনা পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় কিছু আন্তর্জাতিক গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে জাপানের টোকিও, ওসাকা ও সাপ্পোরো; দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল; থাইল্যান্ডের ব্যাংকক; সিঙ্গাপুর; নিউজিল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়ার বালি। এ ছাড়াও, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াগামী ক্রুজ ট্যুরিজম এবং ভূমধ্যসাগরীয় ক্রুজের চাহিদাও বাড়ছে বলে জানিয়েছে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিটি।



