১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুমের দুই মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, আইজিপি ও সেনাবাহিনীর ১২ দপ্তরে পাঠানো নির্দেশনা

ফাইল ছবি

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: গুমের অভিযোগে করা দুইটি মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের জন্য আইজিপির কাছে পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ১২টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরেও এ নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয় বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, পরোয়ানা তৎক্ষণাৎ কার্যকর করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল সংস্থাকে মূল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

যেসব দপ্তরে নির্দেশনা গেছে

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার অনুলিপি যে ১২টি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে–

  • আইজিপি, বাংলাদেশ পুলিশ
  • চিফ অব আর্মি স্টাফ
  • চিফ অব জেনারেল স্টাফ
  • এডজুটেন্ট জেনারেল, আর্মি হেডকোয়ার্টার
  • ডিজি, ডিজিএফআই
  • ডিজি, এনএসআই
  • প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন
  • সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়
  • ডিরেক্টর, মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স
  • ডিরেক্টর, পার্সোনেল সার্ভিস ডিরেক্টরেট (বাংলাদেশ সেনাবাহিনী)
  • কমান্ডেন্ট, আর্মি সিকিউরিটি ইউনিট
  • প্রভোস্ট মার্শাল ও সিইও (আর্মি এমপি ইউনিট ফর ইনফরমেশন)

কী অভিযোগ?

এর আগে বুধবার (৮ অক্টোবর) টিএফআই সেলে সংঘটিত গুমের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে এবং জেআইসি ইউনিটে সংশ্লিষ্ট আরেক ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল-১।

উভয় মামলায় সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম রয়েছে। প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফরমাল চার্জ দাখিল করার পর ট্রাইব্যুনালের সংশোধিত আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী আসামিরা আর রাষ্ট্রীয় কোনো পদে থাকার যোগ্যতা রাখবেন না বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

প্রসিকিউশনের বক্তব্য

চিফ প্রসিকিউটর জানান, “পরোয়ানা জারি হওয়ার পরই আমরা তা দ্রুত সময়ে আইজিপি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে পাঠিয়েছি। আইন অনুযায়ী এখন গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তাদের।”

পরবর্তী ধাপ কী?

  • সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর কাছ থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত রিপোর্ট চাইতে পারে ট্রাইব্যুনাল।
  • ফরমাল চার্জ গৃহীত হলে বিচার কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে।
  • যেহেতু আসামিদের মধ্যে অনেকেই এখনও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আছেন, সেক্ষেত্রে আইনগত ও প্রশাসনিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিস্থিতি এখন নজরকাড়া মোড় নিয়েছে, এবং রাষ্ট্রযন্ত্র কীভাবে এই পরোয়ানা বাস্তবায়ন করে তা নিয়ে পর্যবেক্ষণে আছেন সবাই।

Read Previous

মালিবাগের ফরচুন শপিং মলে জুয়েলারি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি, প্রায় ৫০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উধাও

Read Next

দেশের সব বিমানবন্দরে সাইবার সতর্কতা, কঠোর নির্দেশনা জারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular