
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : লন্ডন ও ইউরোপের কয়েকটি বড় বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক সাইবার হামলার পর নিজেদের সিস্টেম সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দেশের সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বেবিচকের সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খানের স্বাক্ষরে পাঠানো চিঠিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ১০ দফা সাইবার নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যে ১০টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে
- শক্তিশালী ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার
- সন্দেহজনক ই-মেইল, লিংক বা ফাইল না খোলা
- সফটওয়্যার ও অ্যান্টিভাইরাস নিয়মিত আপডেট রাখা
- পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
- অফিসিয়াল ডিভাইসে ব্যক্তিগত অ্যাপ ইনস্টল নিষিদ্ধ
- মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (MFA) বাধ্যতামূলক করা
- যেকোনো অস্বাভাবিক সাইবার অ্যাকটিভিটি সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করা
- আইটি টিমকে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিংয়ে রাখা
- সংবেদনশীল ডেটায় সীমিত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা
- প্রয়োজন ছাড়া ইন্টারনেট-সংযুক্ত ডিভাইস নেটওয়ার্কে না রাখা
তাৎক্ষণিক রিপোর্ট বাধ্যতামূলক
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো ধরনের সাইবার আক্রমণ বা অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হলে বেবিচকের সিএএবি সার্ট টিম, আইটি বিভাগ এবং জাতীয় সাইবার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিমকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে।
পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে বাড়তি সতর্কতা
বেবিচকের সূত্র জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগেই সংস্থার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট সাইবার হামলার শিকার হয়েছিল। এ ঘটনার পর জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি জরুরি সাইবার ঝুঁকি মূল্যায়নের পরামর্শ দেয়, যা বাস্তবায়নের জন্য একটি অভিজ্ঞ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
লন্ডন হিথ্রো, ব্রাসেলস ও বার্লিনের মতো ব্যস্ত বিমানবন্দরে সাইবার হামলার কারণে সাময়িকভাবে ফ্লাইট অপারেশন বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনা বাংলাদেশকেও বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার দিকে ঠেলে দেয়।
বাংলাদেশ এখন সাইবার হামলা ঠেকাতে বিমানবন্দরগুলোতে পূর্ণমাত্রায় সতর্ক অবস্থানে। প্রযুক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ফ্লাইট চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে—এ কারণেই বেবিচক এবার কঠোর অবস্থানে গেছে।
আরও বিস্তারিত বিশ্লেষণ বা গ্রাফিক ব্রেকডাউন চাইলে জানাবেন।



