
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান যাত্রায় নগদ অর্থ পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা বা বিধিনিষেধ নেই বলে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানের সাথে জড়িত একটি ঘটনা নিয়ে উঠেছে বিতর্ক, যেখানে তিনি প্রায় ৫০ লাখ টাকা নিয়ে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আটক হয়েছিলেন। এই ঘটনা দেশের অভ্যন্তরীণ যাত্রায় অর্থ বহনের আইনি দিকগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে, যা অনেকের কাছে অস্পষ্ট ছিল। গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদের বক্তব্য অনুসারে, এই ধরনের যাত্রায় যাত্রীরা যে কোনো পরিমাণ নগদ অর্থ সাথে নিয়ে যেতে পারেন, এবং এতে কোনো আইনি বাধা নেই। তবে আন্তর্জাতিক যাত্রায় অর্থ বহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়মাবলী রয়েছে, যা দেশের বাইরে যাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলাল উদ্দিন প্রধান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে ঢাকা থেকে সৈয়দপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। শাহজালাল বিমানবন্দরে স্ক্যানিংয়ের সময় তার কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ধরা পড়ে। এই ঘটনা জানার পর বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্বাহী পরিচালককে অবহিত করেন। রাগীব সামাদ তখন আইনের স্পষ্টতা নিশ্চিত করার জন্য ঢাকা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। কাস্টমস কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যে অভ্যন্তরীণ রুটে অর্থ পরিবহনের কোনো বিধিনিষেধ নেই। ফলে, যাত্রীকে কাস্টমসের অনাপত্তিপত্র প্রদান করা হয় এবং তিনি নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটে উঠতে সক্ষম হন। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর যা ঘটেছে, তা সিভিল এভিয়েশনের দায়িত্বের বাইরে বলে জানিয়েছেন রাগীব সামাদ। এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় অর্থ বহনের স্বাধীনতা রয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষভাবে সুবিধাজনক। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বা অন্যান্য শহরে ব্যবসায়ীরা নিয়মিতভাবে এই ধরনের অর্থ পরিবহন করেন, এবং এতে কোনো সমস্যা হয় না।
এই ঘটনা নিয়ে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের সাথে জড়িত হওয়ায়। জামায়াতে ইসলামীর একজন উচ্চপদস্থ নেতা হিসেবে বেলাল উদ্দিন প্রধানের এই যাত্রা কেন এত অর্থ নিয়ে ছিল, তা নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, এটি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। রাগীব সামাদ আরও জানান যে, আন্তর্জাতিক যাত্রায় অর্থ বহনের নিয়ম ভিন্ন। সেখানে একজন যাত্রী বছরে সর্বোচ্চ ১২ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ সাথে নিয়ে যেতে পারেন না, এবং এর বেশি হলে বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন। এই নিয়মগুলো অর্থ পাচার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অভ্যন্তরীণ যাত্রায় এই ধরনের সীমাবদ্ধতা না থাকায়, দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সহজতর হয়েছে। তবে এই স্বাধীনতার অপব্যবহার রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।
এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আরও সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যাত্রীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক যাত্রার নিয়মের পার্থক্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো দরকার। এছাড়া, সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আটকের পর যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে পুলিশ বা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত চলছে। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি ছোট ছবি তুলে ধরেছে, যেখানে আইনের স্পষ্টতা এবং তার প্রয়োগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে, দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে স্বাধীনতা থাকলেও, সকল যাত্রীর নিরাপত্তা এবং আইনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে আরও কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।



