
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি যুগান্তকারী দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। এদিন ঘটে যায় এমন একটি গণঅভ্যুত্থান, যা শুধু একটি দীর্ঘকালীন সরকারের পতন নয়— বরং একটি জেগে ওঠা জাতির সম্মিলিত কণ্ঠের প্রকাশ ছিল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের ইতি টানতে বড় ভূমিকা রাখে এক শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন, যা ক্রমেই রূপ নেয় সারা দেশের জনগণের গণবিস্ফোরণে।
কীভাবে শুরু হয় সব?
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনই পরে পরিচিত হয় ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে।
কিন্তু সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন, পুলিশি হামলা ও ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণের ফলে, এই আন্দোলন রাজনৈতিক রূপ নেয় এবং এক দফা দাবিতে উত্তরণ ঘটে— ‘শেখ হাসিনার পদত্যাগ চাই’।
পতনের পেছনের কারণগুলো
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়। বরং এর পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জনঅসন্তোষ। মূল কারণগুলো ছিল:
- ✅ ব্যাপক দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাব
- ✅ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপ
- ✅ গণতান্ত্রিক অধিকারের সংকোচন ও ভিন্নমতের দমন
- ✅ নিরাপত্তা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের দমনমূলক ভূমিকা
সরকার বারবার জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দেয়, ফলে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়।
৫ আগস্ট: ইতিহাসের দিন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল থেকেই ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে লাখো মানুষ রাজপথে নেমে আসে। গণভবনের দিকে জনস্রোত ধাবিত হয়। দুপুরের দিকে আসে চমকপ্রদ খবর—
➡️ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন এবং ভারতে পালিয়ে গেছেন।
তারপর সারা দেশে শুরু হয় বিজয় উল্লাস। বহু মানুষ রাজপথে আনন্দ প্রকাশ করেন, মিষ্টি বিতরণ ও বিজয় র্যালি হয় ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে।
পরিবর্তনের সূচনা
সরকার পতনের পর সেনাবাহিনীর মধ্যস্থতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যার নেতৃত্ব দেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
নতুন সরকার স্বচ্ছ নির্বাচন ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়। একই সঙ্গে নিহতদের স্মরণে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশের এই গণজাগরণকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে। তারা নতুন সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও মানবিক রাষ্ট্র পরিচালনায় পাশে থাকার আশ্বাস দেয়।
জনগণের শক্তির বিজয়
অনেকেই মনে করেন, ৫ আগস্টের ঘটনা কেবল একটি সরকারের পতন নয়— এটি ছিল একটি জাতির আত্মজাগরণের প্রতীক। দীর্ঘ সময় ধরে অন্যায়, দুর্নীতি ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে থাকবে।



