সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু, বিজয়নগরের হামলা ঘিরে শোক ও প্রশ্ন

ওসমান হাদীর মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পর সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ এবং ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পৃথক ঘোষণার মাধ্যমে।

ঘোষণায় জানানো হয়, একাধিক অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়ার পরও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই খবরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ ডিসেম্বর। ওই দিন গণসংযোগ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শরিফ ওসমান হাদি রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় যান। সেখানে অবস্থানকালে হঠাৎ একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে। আকস্মিক এই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা তখনই জানান, তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং পরবর্তী কয়েকটি ঘণ্টা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অস্ত্রোপচারের পর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুরের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তার অবস্থার উন্নতি হয়নি।

শরিফ ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, নাগরিক অধিকার ও সমসাময়িক ইস্যুতে তার সরব ভূমিকা তাকে পরিচিত করে তোলে। মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি ও গণসংযোগে তার উপস্থিতি ছিল নিয়মিত, যা তাকে সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

তার ওপর এই হামলা এবং পরবর্তী মৃত্যু দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রকাশ্য স্থানে দিনের বেলায় এমন হামলা কীভাবে ঘটল এবং হামলাকারীরা কীভাবে পালিয়ে গেল—তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চ এক শোকবার্তায় হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, এটি শুধু একটি সংগঠনের নেতার মৃত্যু নয়, বরং একটি কণ্ঠস্বরের নীরব হয়ে যাওয়া। শোকবার্তায় দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তাকে একজন প্রতিবাদী ও সংগঠক হিসেবে স্মরণ করছেন, আবার অনেকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি তুলছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো জানানো হয়নি কবে তার মরদেহ দেশে আনা হবে এবং জানাজা ও দাফনের সময়সূচি কী হবে। তবে তার আকস্মিক মৃত্যু যে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে একটি শূন্যতা তৈরি করেছে, তা অনেকেই মনে করছেন।

Read Previous

নিরাপত্তাজনিত কারণে রাজশাহী ও খুলনার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ

Read Next

কাওরান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, রাতভর উত্তেজনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular