
পর্যটন সংবাদ। নিজস্ব প্রতিবেদক: বান্দরবানের থানচি উপজেলা। দূর পাহাড়ের আড়ালে, নদীর গর্জনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে লাংলোক ঝর্ণা। মার্মা ভাষায় ‘লাংলোক’ মানে বাদুড়—কারণ ঝর্ণার পাশে আছে এক ছোট বাদুড়ের গুহা। স্থানীয় খুমি পাড়ার মানুষ একে ডাকে ‘ফি ফি ক্লে’। নাম যাই হোক, এর সৌন্দর্য ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন।
কীভাবে যাবেন

থানচি বাজার থেকে নৌকায় তিন্দু পর্যন্ত যেতে হবে। ভাড়া আসা-যাওয়া মিলিয়ে প্রায় ৩,৫০০ টাকা। তারপর শুরু হবে আসল চ্যালেঞ্জ—দুই ঘণ্টার মতো দুর্গম পাহাড়ি ট্রেকিং। ঘন জঙ্গল, পিচ্ছিল পাথর আর খাড়া পথ পেরোতে গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক। গাইডের খরচ দৈনিক ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা।
বর্ষায় ঝর্ণার আসল রূপ

বর্ষা মৌসুমে লাংলোক যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। পাহাড় চূড়া থেকে ধেয়ে আসা সাদা পানির ধারা নিচে এসে মিলিয়ে যায় নীল সবুজ জলে। চারপাশে ঘন মেঘ, বাতাসে ভিজে কুয়াশার ছোঁয়া, আর পাখির ডাকে পাহাড়ের সাড়া—সব মিলিয়ে এক অন্য জগতের অনুভূতি। শুষ্ক মৌসুমে ঝর্ণার রূপ কিছুটা কমে যায়, কিন্তু বর্ষায় তার শক্তি আর সৌন্দর্য দুটোই দ্বিগুণ হয়।
বিশ্বের যেকোনো ঝর্ণার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো
৩৮৮ ফুট উচ্চতার এই ঝর্ণাটি বাংলাদেশের অন্যতম উঁচু মৌসুমি ঝর্ণা। তুলনায় অনেক বড়, অনেক বেশি চমকপ্রদ। তবে এখানে পৌঁছানো সহজ নয়—এটাই এর বিশেষত্ব এবং সৌন্দর্যের গোপন রক্ষক।

সতর্কতার জন্য কিছু কথা
- প্রশাসনিকভাবে এখনও সাধারণ পর্যটকদের জন্য অনুমতি নেই।
- পিচ্ছিল পাথর, গভীর খাদ এবং খাড়া ঢাল আছে, তাই অভিজ্ঞতা ও শারীরিক সক্ষমতা ছাড়া যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
- প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানি এবং খাবার সঙ্গে রাখতে হবে।
- স্থানীয় গাইড ছাড়া যাওয়া উচিত নয়।
লাংলোক ঝর্ণা শুধু একটি গন্তব্য নয়, এটি এক ধরনের অভিজ্ঞতা—যেখানে প্রকৃতি আপনাকে চ্যালেঞ্জ করবে, ভিজিয়ে দেবে, আর অবশেষে আপনাকে মুগ্ধ করে রাখবে। তবে সৌন্দর্যের এই পথে ঝুঁকি আছে, তাই প্রস্তুতি আর নিরাপত্তা সবার আগে।



