
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ব্রুনেই ভ্রমন মানেই অনেকের চোখে ঝলমলে মসজিদ, ভাসমান গ্রাম কিংবা রেইনফরেস্ট। কিন্তু যারা ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির সঙ্গে নির্জনে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য তুতং ও বেলাইত জেলার সমুদ্র সৈকত হতে পারে এক অনন্য গন্তব্য।
তুতং সৈকতের শান্ত সৌন্দর্য
রাজধানী বান্দার সেরি বেগাওয়ান থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিলেই চোখে পড়বে তুতং সৈকতের বিস্তীর্ণ সোনালি বালু। এখানে ঢেউ ততটা উচ্ছ্বসিত নয়, বরং ছন্দময়। সৈকতের পাশ ঘেঁষে নারিকেল আর কাশবন, মাঝে মাঝে দেখা মেলে স্থানীয় জেলেদের। পর্যটকরা এখানে সমুদ্রের ধারে বসে সূর্যাস্ত দেখতে, পিকনিক করতে বা হালকা হাঁটাহাঁটি করতে আসেন। গরমের দিনে বাতাসে মিশে থাকে লবণাক্ত হাওয়া, যা মনকে শান্ত করে দেয়।
বেলাইত সৈকতের প্রাকৃতিক বিস্তার
বেলাইত জেলার সৈকত তুলনামূলক কম পরিচিত হলেও, এখানকার সৌন্দর্য অন্যরকম। এখানে সমুদ্রের নীল জল, বিস্তৃত বালুর চাদর আর পাশে জঙ্গল মিলিয়ে তৈরি করেছে এক ছবির মতো দৃশ্য। সৈকতের আশেপাশে কিছু স্থানীয় খাবারের দোকান আছে, যেখানে তাজা সীফুড পাওয়া যায়। যারা ফটোগ্রাফি পছন্দ করেন, তারা সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় ক্যামেরা হাতে বের হয়ে পড়েন এই অঞ্চলে।
যাতায়াত ও ভ্রমণ পরামর্শ
দুই সৈকতই সড়কপথে সহজে যাওয়া যায়। স্থানীয় ট্যাক্সি বা ভাড়া গাড়ি ব্যবহার করে পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে দেখতে পারেন। যাওয়া সবচেয়ে ভালো নভেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে, যখন আকাশ পরিষ্কার আর সমুদ্র অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকে।
ভ্রমণকারীদের জন্য সতর্কতা
এখানে জনসমাগম তুলনামূলক কম, তাই নিরাপত্তার জন্য একা না গিয়ে দলবদ্ধভাবে যাওয়া ভালো। সাঁতার কাটার আগে জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নেওয়া জরুরি। সৈকতে আবর্জনা না ফেলে পরিবেশ পরিষ্কার রাখা সবার দায়িত্ব।
তুতং ও বেলাইত সমুদ্র সৈকত ব্রুনেই ভ্রমণের ব্যস্ত সূচিতে একদিনের শান্ত বিরতির মতো। এখানে সময় কাটানো মানে কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে প্রকৃতির কোলের প্রশান্তি খুঁজে পাওয়া।



